প্রধানমন্ত্রীর দরবারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ৩ আনসার সদস্য গ্রেপ্তার
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দরবার কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তিন আনসার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২২ মে বিকেলে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে বিশৃঙ্খলার এমন ঘটনায় ২১ মে আনসার ও ভিডিপির অ্যাডজুট্যান্ট মাসুদ হাসান বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- গাজীপুর মহানগরীর সামান্তাপুর এলাকার আফাজ উদ্দিন সরকারের ছেলে রায়হান উদ্দিন সরকার, একই এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে আশরাফুল আলম ও নগরীর নহরীর পাড় এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে শাকিল আহমেদ। তারা সবাই ইয়ুথ লিডারশিপ কোর্সের প্রশিক্ষণার্থী ও নিজ নিজ এলাকার টিডিপি দলনেতা ছিলেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০ মে জাতীয় সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রীর দরবার কর্মসূচি বানচাল করার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। তারা ইনস্ট্রাক্টর কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহার করে সংগঠিতভাবে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উত্থাপন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। সেখানে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে প্রশিক্ষণার্থীদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে অজ্ঞাত নম্বর ও বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর দরবারকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা করা হয়। ১৭ মে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমি, সফিপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা প্রায় ১৭৭ জন সদস্যের মধ্যেও এ চক্র সক্রিয় ছিল। তাদের মাধ্যমে ভাতা বৃদ্ধি, রেশন–সুবিধা, স্থায়ীকরণ, নিয়োগে অগ্রাধিকার এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধাসংক্রান্ত দাবি সামনে আনা হয়। এসব দাবি আদায়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
মামলার বাদী মাসুদ হাসান জানান, সমাবেশকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলামের বলেন, গ্রেফতার তিন আসামিকে শুক্রবার বিকেলে আদালতে হাজির করলে দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় তারা জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।