১৯ মে ২০২৬, ০১:২৫

বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় শক্তিশালী শান্তিরক্ষা ব্যবস্থার আহ্বান বাংলাদেশের

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সেমিনার  © সংগৃহীত

ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের জন্য জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন, পর্যাপ্ত সম্পদ এবং আধুনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার (১৮ মে) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সেমিনারে এ আহ্বান জানানো হয়।

“Dialogue to De-escalate: How United Nations Military Peacekeepers Protect Civilians through Dialogue and Engagement” শীর্ষক এই সাইড ইভেন্টে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। 

তিনি বলেন, জটিল ও সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের জানমাল রক্ষায় শান্তিরক্ষীরা অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করছেন। তবে বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাষ্ট্রদূত চৌধুরী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক যুদ্ধ কৌশলের ফলে সৃষ্ট নতুন হুমকি মোকাবিলায় শান্তিরক্ষীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি গাজা ও রোহিঙ্গা সংকটের উদাহরণ টেনে বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বাধাহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।

বাংলাদেশসহ অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ঘানা, ইন্দোনেশিয়া, উরুগুয়ে, জাম্বিয়া এবং স্টিমসন সেন্টার যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সামরিক উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেরিল পিয়ার্স এবং মিনুস্কার ফোর্স কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল হামফ্রে নিয়োনেসহ অন্যান্য সামরিক নেতৃবৃন্দ।

স্টিমসন সেন্টারের লিসা শারল্যান্ডের সঞ্চালনায় এই সেমিনারে জ্যেষ্ঠ জাতিসংঘ কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং সামরিক বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। সংঘাত নিরসনে সামরিক শক্তির পাশাপাশি সংলাপভিত্তিক সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তার ওপরও অনুষ্ঠানে বিশেষ জোর দেওয়া হয়।