টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগ, বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে বদলি
বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খাঁনকে বদলি করা হয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ৩৬ কোটি টাকার টেন্ডারে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে সদর দপ্তর ঢাকায় একই পদে সংযুক্ত করা হয়। গত বৃহস্পতিবার আদেশ জারি হলেও রবিবার (১৭ মে) বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হয়।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৩ জুন বরগুনায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের পর থেকেই নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন মেহেদী হাসান খাঁন। তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন খাল খনন কাজে অনিয়ম হলেও তিনি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। বরং অনিয়মের অভিযোগ উপেক্ষা করে প্রকল্পের অর্থ ছাড় দেওয়া হয়। গত মার্চ মাসে আমতলী ও তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩৬ কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এতে ৭৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলেও গত ২০ এপ্রিল পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে অনিয়মের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের আত্মীয়স্বজন। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকটাত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান এমএস লুৎফুল কবির ট্রেডার্স, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আতিকুর রহমান নুরের প্রতিষ্ঠান এমএস নুর কনস্ট্রাকশন, সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর আত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান এসএম লেলিন ট্রেডার্স (লেলিন-দীপ জেভি) এবং সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র গাইনের আত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান নিশিত বসু ট্রেডার্স।
গত ১০ মে বিষয়টি নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর এলজিইডির প্রধান কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নড়েচড়ে বসে। এরপরই নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান খাঁনকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মেহেদী হাসান খাঁন বলেন, এখনও অফিসিয়ালি বদলির চিঠি হাতে পাইনি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি।