বাংলাদেশি কর্মী নিতে বড় সুখবর দিল দুবাই
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে আজ তাঁর কার্যালয়ে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির (ডিটিসি) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ চালক নিয়োগের পাশাপাশি ডাক্তার, নার্সসহ 'হোয়াইট কলার' বা পেশাজীবী কর্মী নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সাথে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানিতে বাংলাদেশি চালকদের অভিবাসন খরচ কমিয়ে ১ লাখ টাকার মধ্যে রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
সাক্ষাৎকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী দুবাই থেকে আগত প্রতিনিধি দলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ড্রাইভার নিয়োগ করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতেও বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে এবং এই পুরো প্রক্রিয়া সফল করতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি।
বৈঠকে মন্ত্রী নতুন চালকদের সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি দুবাই গমনের পর প্রশিক্ষণকালীন সময়ে যেন বাংলাদেশি চালকদের যথাযথ বেতন-ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, সে লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে অনুরোধ জানান। একই সাথে তিনি প্রথাগত শ্রমবাজারের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ডাক্তার ও নার্সদের মতো 'হোয়াইট কলার' বা পেশাজীবী কর্মী নিয়োগের জন্য প্রতিনিধি দলকে বিশেষ আহ্বান জানান।
সৌজন্য সাক্ষাৎকারে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে বিশ্বের ২৭টি দেশ থেকে প্রায় ১৫,০০০ কর্মী তাদের কোম্পানিতে ট্যাক্সি ও লিমুজিন ড্রাইভার হিসেবে কর্মরত আছেন। অত্যন্ত গর্বের বিষয় যে, এই বিশাল কর্মীবাহিনীর মধ্যে প্রায় ৮,০০০ জনই বাংলাদেশি।
প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশি কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশি কর্মীরা অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং বিশ্বস্ত হওয়ায় চালক নিয়োগের ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। এমনকি বর্তমানে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশি নারীরাও অত্যন্ত সফলতার সাথে ড্রাইভিং পেশায় নিয়োজিত আছেন বলে তারা উল্লেখ করেন।
তারা আরও জানান যে, আগামীকাল থেকেই 'বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র'-এ ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে যোগ্য বাংলাদেশি ড্রাইভারদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হবে। এই দফায় নতুন করে ১,৫০০ জন ড্রাইভার নিয়োগ দেওয়া হবে এবং চলতি বছরে সব মিলিয়ে মোট ৬,০০০ বাংলাদেশি চালক নিয়োগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে কোম্পানিটি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক দরিদ্র ও খেটে খাওয়া কর্মীদের আর্থিক দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে একজন ড্রাইভারের দুবাই যেতে বর্তমানে অনেক টাকা খরচ করতে হয়। এই কর্মীরা অত্যন্ত সাধারণ পরিবারের এবং অনেকেই অনেক কষ্ট করে বা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এই অর্থ সংস্থান করেন।
তাই কর্মীদের আর্থিক সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করে এবং তাদের ওপর থেকে ঋণের বোঝা কমাতে এই অভিবাসন খরচ (Migration Cost) উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকার মধ্যে রাখার জন্য দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির প্রতিনিধিদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী।
এই দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানটিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোখতার আহমেদ, দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানি এবং আল আনাস ওভারসিজের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি দলসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।