১৬ মে ২০২৬, ১২:৩৮

জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা: এবার মূল ছবি প্রকাশ করে তথ্য চাইল পুলিশ, পুরষ্কার ঘোষণা

লাল বৃত্তে মূল অভিযুক্ত যুবক  © টিডিসি ফটো

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক ছাত্রীকে আক্রমণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে এবার সিসিটিভি ফুটেজের মূল ছবি প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একইসঙ্গে অভিযুক্তের পরিচয় বা অবস্থান নিশ্চিত করতে পারলে তথ্যদাতাকে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আজ শনিবার (১৬ মে) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে তারা কাজ করছে। যদি কেউ ওই ব্যক্তির অবস্থান বা সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য জানেন, তবে ০১৩২০০৮৯৩০৫ নাম্বারে (হোয়াটসঅ্যাপ) যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যদাতাকে পুরস্কৃত করা হবে।

এর আগে, অভিযুক্তের পরিচয় শনাক্তের জন্য আসল সিসিটিভি ফুটেজ বা ছবি না দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই এনহ্যান্সড’ প্রযুক্তিতে তৈরি একটি বিভ্রান্তিকর স্থিরচিত্র সরবরাহ করার অভিযোগ ওঠে। ওই কৃত্রিম ছবির ওপর ভিত্তি করেই প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য চাওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে ব্যাপক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভুল ছবিটি প্রকাশিত হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

আরও পড়ুন: জাবিতে ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযুক্তের এআই ছবি ভাইরাল

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১২ মে ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ভুক্তভোগীসহ কয়েকজন সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে শনাক্ত করলেও সাংবাদিকদের ফুটেজ দেখতে দেওয়া হয়নি। সে সময় তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রশাসনের বিরুদ্ধে চরম অসহযোগিতার অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষার্থী লামিসা জামান বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তের নড়াচড়ার কারণে ছবি স্পষ্ট আসছিল না। তাই ভেতরে চারটি ছবি ক্লিয়ার (এনহ্যান্স) করা হয়। ভুক্তভোগী যার সাথে সবথেকে বেশি মিল খুঁজে পান, সেই ছবিটিই আমি বাইরে সাংবাদিক ও অন্যদের দেই।’

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এআই এনহ্যান্সড ছবিটি কাউকে দিইনি। আমরা পুলিশকে মূল ফুটেজটাই দিয়েছি। তবে জনসম্মুখে ছবিটি আমরা প্রকাশ করিনি। আমাদের আরও আগেই ছবিটি পাবলিক করা উচিত ছিল।’