দুই দশক পর চাঁদপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দীর্ঘ ২২ বছর পর তারেক রহমান-এর চাঁদপুর সফরকে কেন্দ্র করে জেলায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। আগামীকাল শনিবার (১৬ মে ২০২৬) সরকারি সফরে চাঁদপুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা তারেক রহমান।
তাঁর আগমনকে ঘিরে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। শহর থেকে গ্রাম-সবখানেই টাঙানো হয়েছে শুভেচ্ছাবার্তা সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন। দলীয় নেতা-কর্মীরা করছেন আনন্দ মিছিল, গণসংযোগ ও প্রচারণা।
সফরসূচি অনুযায়ী, খাল পুনঃখনন ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির পাশাপাশি চাঁদপুর ক্লাবে আয়োজিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায়ও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জানা গেছে, শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকার ‘খোদ খাল’ এবং সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষেরহাট এলাকার ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষেরহাট এলাকার বাসিন্দা মো. ফারুক বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলিত খালগুলো পুনঃখনন করা হলে জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়া এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এদিকে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিকেও সফরের বড় আকর্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের ২২টি জেলায় একযোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
চাঁদপুর শহরের বাসিন্দা ও ‘ক্লিন চাঁদপুর’-এর প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট নূরুল আমিন খান আকাশ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জেলার উন্নয়ন প্রত্যাশাও নতুন করে সামনে এসেছে। চাঁদপুরবাসী ইপিজেড স্থাপন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন এলাকা গড়ে তোলা এবং নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে চাঁদপুরকে দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা সম্ভব। খাল পুনঃখননের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং নদীনির্ভর জনপদের জীবনযাত্রায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, চাঁদপুরবাসীর বিভিন্ন দাবি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর এই সফর জেলার উন্নয়ন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।