১৩ মে ২০২৬, ১২:৩২

সরকারকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ পোলিও টিকা দিল চীনের সিনোভ্যাক

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের হাতে টিকার অনুদান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের  © সংগৃহীত

সরকারের সমন্বিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) চলমান কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ পোলিও টিকা অনুদান দিয়েছে চীনের শীর্ষস্থানীয় টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন। আজ বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ এই অনুদান গ্রহণ করে। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। এতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লী সাওপোং ও সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডাইরেক্টর লী নিং উপস্থিত ছিলেন। 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চীনা টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাকের তৈরি অনুদানকৃত মোট ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল বা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৮০ ডোজ পোলিও (Poliomyelitis Vaccine, Inactivated Sabin Strains (sIPV) টিকার চালান এরই মধ্যে ইপিআই সংরক্ষণাগারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যেখান থেকে পরবতীতে চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদেরকে প্রদান করা হবে। 

জানা গেছে, সিনোভ্যাকের তৈরি পোলিও (পোলিওমাইলাইটিস ভ্যাকসিন, ভেরো সেল, ইনঅ্যাক্টিভেটেড সেভিন স্ট্রেইন - sIPV)- টিকা ২০২২ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে প্রি-কোয়ালিফিকেশন যোগ্যতা অর্জন করেছে। বৈশ্বিক পোলিও নির্মূল প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সিনোভ্যাক ইতোমধ্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় এই একই ভ্যাকসিন সফলভাবে সরবরাহ করে আসছে।

এদিকে, টিকা নিয়ে বাংলাদেশের এই দুঃসময়ে সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের টিকা অনুদানের জন্য চীনের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক বন্ধু হিসেবে চীন বাংলাদেশের পাশে রয়েছে, সেটা আবারও প্রমাণ করেছে দেশটি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের টিকার ব্যবস্থা হলেও এখন সামনে ডেঙ্গু, পোলিও, হান্টাসহ অনেক রোগ চোখ রাঙাচ্ছে। এগুলো মোকাবিলা করা এখন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। তবে পোলিও, যক্ষ্মাসহ যেসব রোগের টিকার প্রয়োজন, তার ঘাটতি নেই। এসব টিকা কার্যক্রম চলছে। 

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত প্রায় সব শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। বাকি যারা আছে, তাদের শিগগিরই টিকা দেওয়া হবে।

এছাড়া শীঘ্রই ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন শুরু হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বলেন, ডেঙ্গুর জন্য প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে এই সংখ্যা বাড়ানো হবে।

অনুষ্ঠানে চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লী সাওপোং বক্তব্য রাখেন। সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেড এর চিফ বিজনেস ডাইরেক্টর লী নিং বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা করতে পেরে সিনোভ্যাক অত্যন্ত গর্বিত। আজ আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সিনোভ্যাকের তৈরি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রি-কোয়ালিফিকেশন যোগ্যতা অর্জনকৃত ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮৪ ডোজ পোলিও (sIPV) ভ্যাকসিন অনুদান প্রদান করতে পেরে আনন্দিত।

পোলিও শিশুদের জন্য একটি গুরুতর সংক্রামক রোগ এবং টিকাদানকে পোলিও প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা উল্লেখ করে সিনোভ্যাকের এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা আশা করি, অনুদানের এই টিকা বাংলাদেশের ইপিআই কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং দেশের পোলিও নির্মূল কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। বাংলাদেশের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে ভবিষ্যতেও সিনোভ্যাক বাংলাদেশের পাশে থেকে চীন-বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, চীনা দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি হোআং মৌচং, সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের হেড অব ইন্টারন্যাশনাল রেগুলেটরি ওয়াং পোং, সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।