১১ মে ২০২৬, ২১:১১

বাংলাদেশের সরকার এখন কাঁটাতার ভয় পায় না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা 

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির  © সংগৃহীত

বাংলাদেশ লাগোয়া সীমান্তে বেড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এজন্য ৪৫ দিনের মধ্যে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) জমি হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকার এখন কাঁটাতার ভয় পায় না- বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। 

সোমবার (১১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। 

উপদেষ্টা বলেন, ‘কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশের মতো দেশকে এখন আর ডর (ভয়) দেখানোর মতো জায়গা নেই। দেখুন, যদি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক করতে চান, বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না। বাংলাদেশ সরকারও কাঁটাতার ভয় পায় না। যেখানে আমাদের কথা বলার দরকার, আমরা কথা বলবো।’ 

তিনি আরও বলেন, বর্ডারে অনেকগুলো মানুষ হত্যা করা হয়। যেগুলো আগে দেখছি আমরা হাসিনার সময়। ওই নমুনা বর্ডারে আর কোনও দিন আসবে না ইনশাআল্লাহ। আর ওই নমুনায় যদি কেউ বর্ডার করতেও চায়— এই বাংলাদেশ ওই গোলামীর দেশ নয় যে, বসে দেখবে। বাংলাদেশের পরিকল্পনা আছে কী করতে হবে।’  

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আশা করি, ওই পথে যাবে না। প্রতিবেশী দেশগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে। আমরা আমাদের প্রতিবেশীর সঙ্গে ডায়ালগ চাই। চ্যালেঞ্জ থাকবে। সন্ত্রাসী হাসিনা দেড় হাজার মানুষকে মেরে ওখানে পালিয়ে গেছেন। এখন আছেন ভারতের সার্বভৌম রাষ্ট্রে। ভারতে থেকে তাকে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য যাতে স্পেস না দেওয়া হয়। আমরা আশ্বস্ত হয়েছি, ভারতের সরকারের কাছ থেকে তারা তাকে ওই স্পেসটা দেবে না।’

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনে জেতার জন্য বহু ধরনের প্রচারণামূলক কথা বলা হয়। কিন্তু যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তাদের ব্যাপারটা একেবারে আলাদা। আমরা একটু সময় দেই। প্রচারণামূলক কথা আর সরকারের কথা এক নয়। আমাদের সম্পর্কটা প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেই থাকবে। এখানে আমরা তাদের ভেতরের রাজনীতি দেখতে পাচ্ছি।’

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে এখন বিজেপি সরকার এসেছে। বিজেপি সরকার যখন এসেছে— ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি রাজ্য সরকারে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকায় তাদের একটা মতামত নেওয়া লাগতো, যেটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে যেতো। এখন আর তৃণমূল কংগ্রেস নেই। এখন কেন্দ্র সরকার ও প্রদেশের সরকার একই দলের। আমরা আশা করি, এই দিকে থেকে ইতিবাচক এবং কম চ্যালেঞ্জিং হওয়ার কথা। সুতরাং সময় কথা বলবে।’