০৮ মে ২০২৬, ১২:৫২

দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার, আবেদন যেভাবে 

প্রতীকী ছবি  © ফাইল ছবি

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এককালীন আর্থিক অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। মে-জুন প্রান্তের এই সহায়তার জন্য ইতোমধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এই সুবিধার জন্য আগামী ৩০ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান নির্দেশিকা, ২০২০’ অনুসরণ করে এই অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ই-চিকিৎসা অনুদান ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের নির্ধারিত লিংকে  প্রবেশ করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী তাঁর চিকিৎসার মেয়াদে কেবল একবারই এই অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে, দুর্ঘটনার সময় এবং আবেদনের বিজ্ঞপ্তির মধ্যকার ব্যবধান এক বছরের বেশি হওয়া চলবে না।

আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ও আর্থিক যোগ্যতা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে সরকার। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আগের পরীক্ষায় কমপক্ষে ৬০ শতাংশ নম্বর অথবা জিপিএ ৫-এর স্কেলে ৩.৫০ এবং স্নাতক পর্যায়ে জিপিএ ৪-এর স্কেলে ৩.০০ প্রাপ্তির সনদ আপলোড করতে হবে। এছাড়া প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক কর্মে নিয়োজিত ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সন্তানরা মা-বাবার বেতনের গ্রেড সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিবারের বার্ষিক আয় ২ লাখ টাকার কম হতে হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের দেওয়া ‘দরিদ্র’ মর্মে প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হবে।

আবেদন করুন এখানে

আবেদনের সঙ্গে দুর্ঘটনার সপক্ষে জেলা পর্যায়ের সিভিল সার্জন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক অথবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দেওয়া ‘গুরুতর আহত’ সংক্রান্ত চিকিৎসা সনদ অবশ্যই যুক্ত করতে হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন, মা-বাবার এনআইডি, ছবি, স্বাক্ষর এবং অনলাইন ব্যাংক হিসাবের তথ্য (চেকের পাতা বা স্টেটমেন্ট) স্পষ্টভাবে আপলোড করতে হবে। অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ ব্যাংক হিসাবের তথ্যের কারণে টাকা পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ট্রাস্ট পুনরায় তা পাঠানোর দায়িত্ব নেবে না।

পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় কোনো হার্ডকপি সরাসরি ট্রাস্টের অফিসে পাঠানোর প্রয়োজন নেই। শিক্ষার্থীদের নিজেদের বা মা-বাবার সচল অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ব্যবহার করতে হবে। যদি শিক্ষার্থী মা-বাবা ছাড়া অন্য কোনো অভিভাবকের ওপর নির্ভরশীল হয়, তবে কেবল সেই ক্ষেত্রেই অভিভাবকের ব্যাংক হিসাব বিবেচনা করা হবে। 

আগামী ৩০ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে নির্ধারিত পোর্টালের মাধ্যমে সফলভাবে আবেদন সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।