বগুড়াসহ যে চার জেলায় আরও ৫টি উপজেলা হচ্ছে
দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করতে বগুড়া সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠাসহ দেশের চার জেলায় নতুন ৫টি উপজেলা গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২০তম সভায় আজ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হলে দেশে মোট উপজেলার সংখ্যা দাঁড়াবে ৫০০টিতে। এছাড়া বগুড়া পৌরসভা হবে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন।
নতুন উপজেলা গঠনের তালিকায় রয়েছে কক্সবাজার, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও ও লক্ষ্মীপুর জেলা। প্রস্তাব অনুযায়ী, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘মাতামুহুরী’ নামে নতুন উপজেলা করা হচ্ছে। বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলাকে ভেঙে গঠন করা হচ্ছে ‘মোকামতলা’ উপজেলা। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘রুহিয়া’ ও ‘ভুল্লী’ নামে দুটি আলাদা উপজেলা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাকে ভেঙে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ নামে একটি নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই এলাকাগুলোর ভৌগোলিক বাস্তবতা ও জনসংখ্যা বিবেচনায় প্রশাসনিক সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ।
বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার বিষয়টি এবারের নিকার সভার অন্যতম আলোচিত বিষয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, আয়তন, জনসংখ্যা এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বিবেচনায় বগুড়া সিটি করপোরেশন হওয়ার সব শর্ত পূরণ করেছে। প্রাক-নিকার কমিটির সভায় ইতোমধ্যে এই প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবটি গৃহীত হলে উত্তরবঙ্গের এই গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরটি দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। বর্তমানে দেশে ১২টি সিটি করপোরেশন এবং ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন প্রশাসনিক ইউনিটগুলোর বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত ও ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনা করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, ‘নতুন প্রশাসনিক ইউনিটগুলো গঠিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবার বিকেন্দ্রীকরণ ত্বরান্বিত হবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে গতি আসবে।’
নিকার সভার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রশাসনিক জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব হবে বলে সরকার আশা করছে।