০৬ মে ২০২৬, ২০:৪৮

শনিবার সারাদেশের সাংগঠনিক নেতাদের ডেকেছেন তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান   © সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হয়ে দীর্ঘ দেড়যুগ পর সরকার গঠন করেছে দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করা বিএনপি। দলীয় চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের ২৫জন নেতা পূর্ণ মন্ত্রী ও ২৪জন নেতা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। এই মন্ত্রিসভার ৪১ জন সদস্যই প্রথমবারের মতো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। এর বাইরে তিনজন সিনিয়র নেতা মন্ত্রীর পদ মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা পদ পেয়েছেন। 

বিএনপি সূত্র জানায়, সরকার গঠনের পর নেতারা সার্বক্ষণিকভাবে যার যার মন্ত্রণালয়ের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নেতা রয়েছেন যারা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাও বটে। তারা সরকারী কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় যার যার সংগঠনে ন্যূনতম সময় দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ফলে এসব অঙ্গ সংগঠনসহ খোদ বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর গেল প্রায় দুই মাসে মোট দুইদিন নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যেতে পেরেছেন। 

আর কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও মন্ত্রীর পদ মর্যাদায় রাজনৈতিক উপদেষ্টার পদে ব্যস্ত হয়ে দলকে আগের মতো সময় দিতে পারছেন না। রিজভী বছরের পর বছর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় আগলে রেখেছিলেন। ফলে বর্তমানে নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয় কার্যত নেতাকর্মী শূন্য খা খা অবস্থা বিরাজ করছে। সাধারণ নেতাকর্মীরা সিনিয়র নেতাদের নাগালে না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন। আর ক্ষমতাসীন দল হওয়ায় মাঠের রাজনীতিতেও নেই কোনো দলীয় কর্মকাণ্ড। 

দলীয় সাংগঠনিক স্থবিরতার পরিপ্রেক্ষিতে দলের ভেতর থেকে তাগিদ উঠে সরকারের পাশাপাশি দলকে সক্রিয় করার। এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় নেতাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে দল ও বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর কথাও বলেন কেউ কেউ। এরই ধারাবাহিকতায় দলকে সাংগঠনিকভাবে সচল ও সক্রিয়তার উদ্দেশ্যে দলের ৮২ সাংগঠনিক জেলা ইউনিটের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক কিংবা সদস্য সচিব পদে থাকা নেতাদের রাজধানী ঢাকায় ডেকেছে বিএনপি। 

আগামী ৯ এপ্রিল শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সাংগঠনিক ইউনিটের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সরকারের বেশকয়েক জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও অঙ্গ সংগঠনের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত থাকবেন। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততায় রাজনৈতিক কর্মসূচি, দলের আদর্শিক চর্চা এবং সংগঠন শক্তিশালী করার কাজ ঝিমিয়ে পড়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তৃণমূল পর্যায়ে। কর্মীদের মধ্যে আগের মতো উদ্দীপনা ও সক্রিয় কর্মকাণ্ড চোখে পড়ছে না। অনেকেই দলীয় কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। তাই সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতবিনিময় সভা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কেননা তিনি দেশে আসার পর সারাদেশের জেলা বিএনপির সাংগঠনিক ইউনিট নেতাদের সঙ্গে এটাই প্রথম মতবিনিময় সভা। 

জানতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, আগামী ৯ মে ঢাকায় সারাদেশে বিএনপির সাংগঠনিক ৮২ জেলা বিএনপির ইউনিট শীর্ষনেতাদের ডাকা হয়েছে। তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নেতাদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক বার্তা দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

বিএনপির নেতারা জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করার পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার কথা ভাবছেন। তিনি সরকারের পাশাপাশি দলকে চাঙা রাখতে চান। সেজন্য সরকারের বাইরে দলকে শক্তিশালী করতে যাদের মন্ত্রী কিংবা এমপি করা যায়নি, তাদের দিয়ে দল পুনর্গঠন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন দলীয় প্রধান। 

বিএনপির বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের সাংগঠনিক সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় সভায় আলোচনা হবে। বিশেষ করে দল পুনর্গঠন ও দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে সভায়। এছাড়া সেখানে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বেশকয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর কার্যক্রমের মূল্যায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরা হতে পারে। যেন সর্বস্তরের জনসাধারণের কাছে সরকারের সঠিক বার্তা পৌছে দিতে পারেন সভায় উপস্থিত থাকা সংশ্লিষ্ট নেতারা।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পরপর দলের জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও গত এক দশকেও তা হয়নি। তবে এ সময়ে দলের নির্বাহী কমিটিতে একাধিকবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুক্ত হয়েছে নতুন মুখ। কেউ পদোন্নতি পেয়েছেন, আবার কাউকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি দলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে স্থায়ী কমিটির বৈঠকগুলোতেও কাউন্সিল করার পক্ষে অভিমত দিয়েছেন অধিকাংশ নেতা। কাউন্সিলের দিনক্ষণ ঘোষণার জন্য দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দায়িত্ব দিয়েছে স্থায়ী কমিটি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষের দিকে বিশেষ করে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে বিএনপি।