জনগনের কাছে সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
জনগনের কাছে সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমি পরিষ্কার করে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই, নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত যে জুলাই সনদ অর্থাৎ আমাদের ম্যানিফেস্টো এবং জুলাই সনদ এটার প্রতিটি দফা প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা এ ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।
রবিবার চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সম্মেলন হয়। অনুষ্ঠানে সরকারের উন্নয়নের কর্মকান্ডের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
জেলা সম্মেলনে চলাকালে কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি এয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ে সরকার গঠনের পর এটি প্রথম ডিসি সম্মেলন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করব আপনারা আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে ইনশাআল্লাহ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
মাঠ প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে অবস্থান করছেন। একটি শক্তিশালী জবাবদিহিমূলক আইনসম্মত এবং জনবান্ধব রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনারাই হচ্ছেন কিন্তু সরকারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। সুশাসন বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি আমরা করতে চাইছি। সুশাসনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য নেতৃত্ব এবং অবশ্যই জবাবদিহিতা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। সেটি হচ্ছে আমরা কমপ্রমাইজ করতে চাই না দুর্নীতির সাথে।’
নির্দেশনামূলক বক্তব্যে সরকার প্রধান বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। একই সাথে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একই সঙ্গে প্রয়োজনের অতিরিক্ত আইন কানুন ও জটিতলতাকে অজুহাত হিসেবে আমরা ব্যবহার না করি বরং বাস্তবসম্মত কার্যকর ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা আমরা প্রশাসনের সকল পর্যায়ে গড়ে তোলার চেষ্টা করি। যাতে করে জনগণ সময়মতন সরকারের প্রতিটি কর্মসূচির প্রত্যাশিত যে সুফল সেটি লাভ করতে পারে।’
‘সততা-মেধাই পদোন্নতির মূলনীতি’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই সততা মেধা এবং দক্ষতাই হবে জনপ্রশাসনের নিয়োগ বদলি কিংবা প্রমোশনের মূলনীতি। স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার সাথে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন, বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়ন সহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রসঙ্গ’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব এখন আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্সের যুগে প্রবেশ করেছে। এ ব্যাপারে আমরা সবাই ওয়াকিফাল। সুতরাং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় যদি টিকে থাকতে হয় তাহলে অবশ্যই জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদেরকেও সময়ের সঙ্গে মোকাবেলায় নিজেদেরকে প্রস্তুত রাখতে হবে। আমি সিউর আপনারা এ ব্যাপারে সচেতন আছেন এবং সে ব্যাপারে নিজেদেরকে প্রস্তুত করে তুলছেন।’
তিনি বলেন, ‘চতুর্থ বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে জনপ্রশাসনের কার্যক্রমকে আরো কিভাবে সময়োপযোগী, দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহি করা যায় এটি বোধহয় আমাদের এখন চিন্তা করা উচিত হবে। আমি মনে করি যেহেতু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বলেন এইগুলো এগিয়ে যাচ্ছে আমার মনে হয় আমাদের এই বিষযয়ে ডেভেলপ করা ছাড়া বিকল্প কোন কিছু নেই।’
‘ডিসিরা মাঠ পর্যায়ের অ্যাস্বেসেডর’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সম্মেলনকে কেবল আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের জায়গা হওয়া উচিত নয় বরং এটি এমন একটি পরিসর যেখানে মাঠ প্রশাসনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সীমাবদ্ধতা প্রয়োজন এবং উদ্ভাবনী চিন্তা সরাসরি জাতীয় পর্যায় সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হতে পারে বা হওয়া উচিত। আপনারা মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক অ্যাম্বাসেডর।’
‘বাজার নিয়মিত তদারকি করতে হবে’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ইচ্ছামত যাতে কেউ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়াতে না পারে কিংবা যে টেন্ডেন্সিটি আমরা দেখি বিভিন্ন সময় মজুদারি বা কারসাজির মাধ্যমে বাজারে অস্থিতিশতা সৃষ্টি করতে না পারে, কোন ধরনের সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা কেউ করতে না পারে….এইজন্য নিয়মিত বাজার তদারকে জোরদার করা প্রয়োজন। বাজার ব্যবস্থাপনের স্থীতিশীলতা বজায় রাখা এটি সামাজিক স্থিতি এবং জনগণের আস্থার সঙ্গেও কিন্তু সরাসরি সম্পর্কিত।’
তিনি বলেন, ‘কৃষক যেন তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পায়। পাশাপাশি কৃষকের জন্য সার, বীজ, সেচ সংরক্ষণ সুবিধা এবং বাজারজাতকরণের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করাও আমাদের জন্য জরুরি। কৃষিকে শুধু উৎপাদনের বিষয় হিসেবে নয় বরং গ্রামীণ জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, গ্রামীণ জনগণের শহরমুখিতা হ্রাস এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার নিয়ামক হিসেবে আমার মনে হয় দেখা প্রয়োজন। এই বিষয়টির সাথে নিশ্চয়ই আপনারা কমবেশি একমত হবেন।’
‘মোবাইল কোর্ট নিয়মিত প্রয়োজন’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কার্যকর নিয়মিত এবং দৃশ্যমান করা প্রয়োজন। বিশেষ করে এখন আরেকটি এই আমাদের এই যে মিডিল ইস্ট ক্রাইসিসের সময় এখন আরেকটি বিষয় আমরা জোর দিতে চাচ্ছি সেটি নিশ্চয় ইন্স্ট্রাকশন আপনাদের সকলের কাছে আছে সেটি হচ্ছে, সন্ধ্যা ৭টার পরে আমরা চাইছি যে, বিভিন্ন মার্কেট প্লেসগুলোতে যাতে বিদ্যুৎ ব্যবহার না হয়। এ ব্যাপারেও আপনাদেরকে একটু খেয়াল রাখার প্রয়োজন, খেয়াল রাখতে হবে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কার্যক্রম নিয়মিত এবং দৃশ্যমান করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ বা জোর পদক্ষেপ আপনারা দয়া করে গ্রহণ করবেন যাতে করে আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অপরাধ দ্রুত দমন করা সম্ভব হয়।’
‘সরকারি সেবায় হয়রানি বন্ধ করতে হবে’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ ন্যায় বিচার প্রাপ্তি সহজতর করা এবং সরকারি সেবাকে হয়রানে মুক্ত করা এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা আমি মনে করি আপনাদের কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় অংশ। উপস্থিতিবৃন্দ, সরকারি কার্যালয় সেবা প্রার্থীরা যেন অপ্রয়োজনীয় হয়রানি না হয় কিংবা বিলম্ব বা অনিয়মের শিকার না হয় দয়া করে সে ব্যাপারে আপনাদেরকে কঠোর নজর রাখতে হবে। জনগণের যেকোন ন্যায্য অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে প্রতিকারের ব্যবস্থা দয়া করে আপনারা গ্রহণ করবেন।’
‘নারী ও শিশু নির্যাতন ও খাদ্য ভেজাল প্রসঙ্গে’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যেগুলো আপনাদের ক্যাপাসিটির মধ্যে আছে। বিশেষ করে আবারো আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাল্যবিবাহ নারী এবং শিশু নির্যাতন দয়া করে এই কয়টি বিষয়ে আপনারা আপনাদের ব্যক্তি অবস্থান থেকে দয়া করে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। প্রশাসনিক অবস্থান আপনাদের আছে তারপরে মানুষ হিসেবে দয়া করে আপনারা এই বিষয়টিতে নজর রাখবে না… আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এটি।’
তিনি বলেন, ‘খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ একটি অত্যন্ত জরুরি বিষয়। এই খাবারটি আপনি খাচ্ছেন, আমি খাচ্ছি, আপনার পরিবারের সদস্য আপনার সাথে থাকছে তারাও খাচ্ছে। কাজেই এটির প্রতি আমাদের নজর রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।’
‘জনমুখী প্রশাসন সুফল বয়ে আনবে’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রোঅ্যাক্টিভ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমি মনে করি জনপ্রশাসনকে গণমুখী করা গেলে জনগণ সরকারের কার্যক্রমের সুফল থেকে নিশ্চয়ই বঞ্চিত হবে না। রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সরকারের যাবতীয় গণমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সরকার জনপ্রশাসনের উপরে নির্ভরশীল। বিভিন্ন সেক্টর চিহ্নিত করে সরকার দেশে বিদেশে কর্মসংস্থানের সৃষ্টির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমাদের সবাইকেই এগিয়ে আসা প্রয়োজন। খেলাধুলা সংস্কৃতি কর্মকাণ্ড এবং জনস্বার্থে স্বেচ্ছাসেবামূলক অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। যেমন আপনারা এর তরে ক্লিনিংয় কাজ করছেন আপনাদের স্ব স্ব এলাকায়, খাল খননের বিষয়টি আছে… এরকম অনেকগুলো বিষয় আছে।’
‘সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কেনো বিশেষ সময়ে হবে?’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেমন গতকাল যেরকম একটা অনুষ্ঠান হয়েছে (নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস), আপনি যদি আপনাদের এলাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় যার দায়িত্বে যারা আছেন, কালচারাল মিনিস্ট্রি যারা আছেন এদের সাথে কথা বলে যদি আপনারা আপনাদের জেলাগুলোতে, উপজেলাগুলোতে, ইউনিয়ন স্কুল কলেজের বাচ্চাদের মধ্যে বিভিন্ন রকম কম্পিটিশনগুলো যদি শুরু করতে পারেন, ডিবেট প্রতিযোগিতা হতে পারে, স্পোর্টস হতে পারে। কেন স্পোর্টস সবসময় শীতকাল আসলে হতে হবে? কেন অন্য সময়ও স্পোর্টস হতে পারবে না। কেন কালচারাল অনুষ্ঠান ওই ২৬ মার্চেই হতে হবে, ১৬ ডিসেম্বর হতে হবে, ২১ ফেব্রুয়ারিতে হতে হবে স্কুল পর্যায়ে? কেন আমরা এটা চেঞ্জ করতে পারবো না। কেন সারা বছর হতে পারবে না?’
জেলায় বিভিন্ন মেলা অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেমন ধরেন মহিলারা বিভিন্ন জিনিস অনেকেই ঘরে বসে বানান সেটার একটা ডিসপ্লের মত আমরা করেছিলাম অর্থাৎ মিনাবাজার সফট কালচারাল অনুষ্ঠান হতে পারে। আমাদের শিল্পকলা একাডেমী আছে মোটামুটি অনেক জেলাতেই আছে যেই জেলাগুলোতে নেই সেখানে জেলা পরিষদের বিল্ডিং আছে সেখানে অডিটোরিয়াম আছে। অর্থাৎ একটা সবসময় সারা বছরই কম বেশি সপ্তাহে যদি একটা অনুষ্ঠানও থাকে তাহলে মানুষের যাবার জায়গা থাকে। এইসব কাজের মাধ্যমে আমরা যেটা দেখছি, আমাদের তরুণ সমাজ বিভিন্ন অন্য বিষয় যেটা প্রত্যাশিত না এরকম অনেক কিছুর সাথে ইনভলভ হয়ে যাচ্ছে তারা। আমরা যদি আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে এই এরকম খেলাধুলা বলেন, সংস্কৃতি বলেন, এই ধরনের বিষয়গুলোতে আমরা ধীরে ধীরে ইনভল্ভ করতে পারি তাহলে আমার মনে হয় তারা এগুলো থেকে আস্তে আস্তে সরে আসবে। তাদেরকে তো আমাদের অপশন দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘একটা ১৬ বা ২০ বছরের ছেলে বা মেয়ে তার ভিতরে যে এনার্জিটা আছে মানসিক এবং শারীরিক এনার্জিটা আছে এটাকে তো বার্ন করার আমাকে জায়গা দিতে হবে। আমি যদি সেই এভিনিউটা তাকে না দেই স্বাভাবিকভাবে সে অন্য কিছুতে ইনভলভ হয়ে যাবে। আসুন এই ভাবে আমরা সমাজকে কিন্তু বদল করতে পারব। আরেকটা বিষয়….আমরা যেরকম ২১ পদক দেই, ২৬ মার্চ স্বাধীনতার পদক দেই। আপনাদের নিজ নিজ ডিস্ট্রিক্ট কিন্তু এরকম অনেক ঘটনা ঘটে। যেমন একটা ছেলে উদাহরণ হিসেবে বলছি, একজন মানুষ হয়ত হঠাৎ করে পুকুরে পড়ে গিয়েছে বা একটা পশু একটা পুকুরে পড়ে গিয়েছে। একজন মানুষ নিজের রিস্ক নিয়ে ওই মানুষটাকে রক্ষা করল…..অথবা ঝড়ে একটা গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে বা গ্রামের মানুষ হাঁটাচলা করতে পারছে না। কয়েকজন ছেলে মিলে সুন্দর করে গাছটাকে সরে রাস্তাটাকে আবার ঠিক করে দিল। অর্থাৎ এরকম সামাজিক ভালো কাজ যেগুলো এই কাজগুলোকে যদি আপনারা এনকারেজ করেন এবং আপনি যদি আপনারা আমাদের কেন্দ্রে পাঠান তখন জাতীয়ভাবে হয়ত আমরা এরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি ‘
তিনি বলেন, ‘এই যে ম্যাট্রিক পরীক্ষা হচ্ছে । মেট্রিক পরীক্ষায় আমরা জানি বিভিন্ন সময় অনেক সময় অনেক ইনসিডেন্ট ঘটে থাকে। ধরেন আপনার উপজেলা সে নাটোর জেলা….সব মিলে আমরা তিনজন বা পাঁচজন টিচার সিলেক্ট করব যারা ভালো পারফর্ম করেছে। তখন আপনি যদি নামগুলা পাঠান আমরা সরকার থেকে তাকে একটা রিওয়ার্ড দেওয়ার বা এ্যাওয়ার্ড দেওয়ার কিছু একটা আমরা ব্যবস্থা করব।
এই ধরনের বিষয়গুলো যদি আপনারা চিন্তা করেন। ফলে হবে কি…দেখুন এই সমাজে এই দেশে তো আমরা সকলে মিলেই বাস করছি। আমরা নিজেরই যখন পারিবারিক লেভেলে আলোচনা করতে বসি আমরা যখন বন্ধু-বান্ধব সামাজিক লেভেলে আলোচনা করতে বসি, আমরা অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করি আমরা যেগুলো আমাদেরকে কিছুটা ডিপ্রেস করে ফেলে, আমরা কিছু ফ্রাস্ট্রেশন এক্সপ্রেস করি আমাদের। কিন্তু আমরা সকলে মিলে যদি এরকম কিছু জিনিস চালু করতে পারি নিশ্চয়ই আমরা পরিবর্তন কিছুটা করতে পারবো, আস্তে আস্তে করতে পারব। যেকোন পরিবর্তন একদিনে হবে না। এসব পরিবর্তন সমাজে ভ্যালু এ্যাড করে। আপনারা যদি এই উদ্যোগগুলো গ্রহণ করেন আমরা এখান থেকে আপনাদেরকে সাপোর্ট দিতে পারবো ইনশাল্লাহ। আমরা চাই এই জিনিসগুলোকে।’
তথ্যমন্ত্রী ও তথ্য সচিবের সঙ্গে একটি আলাপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগে ইনফরমেশন মিনিস্টারসহ সেক্রেটারি সাহেবসহ আমরা আলাপ করছিলাম। আমরা দেখছি সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক কিছু আমরা দেখছি, আমরা সমাজে আমাদের চোখেও দেখছি। আমরা যখন ছোট ছিলাম আমরা যখন স্কুলে পড়তাম আমরা তখন দেখেছি অনেকগুলা সোশাল ভ্যালু ছিল, রিলিজিয়াস ভ্যালু ছিলা বাট এখন কিন্তু সেগুলো ভেরি মাচ এবসেন্ট, আমরা দেখছি না।’
তিনি আরো বলেন, ‘কাজেই ওই জিনিসগুলোকে আস্তে আস্তে আমরা কেন ফিরিয়ে আনতে পারবো না… মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা মানুষের প্রতি জীবের প্রতি দয়া, প্রকৃতির প্রতি দয়া… এরকম ধরনের জিনিসগুলোকে কেন আমরা আস্তে আস্তে ছোট ছোট ঘটনার মাধ্যমে কেন আমরা আবার সামনে আনতে পারবো না। আমরা যদি এরকম আস্তে আস্তে আনতে থাকি নিশ্চয়ই আমরা সামাজিক একটা পরিবর্তন করতে সক্ষম হব। এই চেষ্টাটা আমাদের সকলে মিলেই করতে হবে। এই চেষ্টাটা এইজন্যই করতে হবে কারণ আমরা সকলে মিলেই কিন্তু এই দেশটার মধ্যে বসবাস করছি দেশটা বেটার হলে আমরা বেটার থাকব দেশটা খারাপ হলে আমরা খারাপ থাকব এটাই।’
‘প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র চাই’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞানভিত্তি এবং নৈতিক রাষ্ট্র করতে চাই যা আপনাদের সামনে এতক্ষণ আমি আমার নিজের কথাটি বলার চেষ্টা করেছিলাম। আমরা যদি সেটি করতে সক্ষম হই তাহলে এই যে লাইনটি আমি পড়লাম নিশ্চিত একসময় গিয়ে আমরা সেটি করতে সক্ষম হব। যেখানে ধর্ম বর্ণ মত বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য থাকবে না।এখানে (আমার লিখিত বক্তব্যে) একটি শব্দ লেখা আছে ….আমি জানি কেউ আমার সাথে এগ্রি করবেন কেউ আমার সাথে এগ্রি করবেন না। আমি যেটা বিলিভ করি আমি সেটাই বলছি। এখানে শব্দটা লেখা আছে যেখানে, ধর্ম বর্ণ মত বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোন বৈষম্য থাকবে না। আমি কোন শব্দটা বলতে চাইছি না। আমি বলতে চাই যে বৈষম্য থাকবে না।’
তিনি বলেন, ‘কেন ‘কোন’ শব্দটা বলতে চাইছি না? দিস ইজ ইমপ্র্যাক্টিক্যাল আমার কাছে মনে হয়। পৃথিবী থাকলে কিছু সুবিধা অসুবিধা সমস্যা থাকবে। সেজন্য আমি ‘কোন’ শব্দটা বলতে চাচ্ছি না। হ্যাঁ। বৈষম্যটা আমরা কমিয়ে আনতে চেষ্টা করব। হয়তো কিছু বৈষম্য রয়েই যাবে। আমি দেখিনি বাট শুনেছি যেটা যখন সোনার কোন জিনিস তৈরি করা হয় সেখানে কিছু তো খাদ দিতেই হয় খাদ থাকে… একদম পিউর সোনাতে কিছু তৈরি হয় না। কাজেই সমাজ যখন থাকবে, মানুষ যখন থাকবে হয়তো বা ওয়ান পারসেন্ হলেও বৈষম্য থেকে যাবে। সেজন্য আমি কোন শব্দটা আপনাদের সামনে কেন পড়িনি আমি আপনাদের সামনে তুলে দিলাম।’
‘জাতীয় ঐক্য বড় শক্তি’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, জাতীয় ঐক্যই হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে, মতভেদ থাকাটাই আমাদের মধ্যে স্বাভাবিক। কিন্তু দেশের স্বার্থে আমি ব্যক্তিগতভাবে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দেশের স্বার্থে আমি বিশ্বাস করি সবার আগেই বাংলাদেশ। আমি আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৬ এর সাফল্য কামনা করছি এবং এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত করেছে বিগত ১২ তারিখের নির্বাচনে নির্বাচিত করেছে সরাসরি এই দেশের জনগণ ভোটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে একটি জবাবদিহিমূলক ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থার প্রত্যাশা থাকা থেকে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে বর্তমান সরকার। স্বাভাবিকভাবেই জনগণ সরকারের প্রতিটি কাজের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্ক্ষার একটি বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাইবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আপনারা বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকগণ জনগণের সঙ্গে সরকারের প্রধান সেতু বন্ধ। আপনাদের সততা কর্মদক্ষতা এবং দায়বদ্ধতার উপরে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সাফল্য বলা যায় প্রায় পুরোই নির্ভর করে।’
দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি দুর্বল বিভাজিত জনপ্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমান সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছিল। যে পরিস্থিতিটির বর্ণনা আমি দিলাম সেই পরিস্থিতি ছিল যখন আমরা কাজ শুরু করেছি। অবশ্যই আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আপনাদের সহযোগিতায় অনেকখানি সেই পরিস্থিতি পরিস্থিতিটা আমরা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছি এই আড়াই মাসে। তবে সম্পূর্ণভাবে সেটি এখনো পরিবর্তিত হয়নি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে দুর্নীতি, লুটপাট, রাষ্ট্র এবং জনগণকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছিল সেই শাসন আমল। ৩০ লক্ষ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়েই বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আপনারা কমবেশি ধারণা অবশ্যই আপনাদের আছে। আমরা দেখেছি বিগত সরকার সময় দেশকে একটা আমদানি নির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। বিভিন্ন স্ট্যাটিস্টিক্স যেটা বলে দেশে দারিদ্র্য বেড়েছে, দেশে বেকারত্ব বেড়েছে, নতুন কর্মসংস্থান হয় নাই বললেই চলে। প্রতি সাংবিধানিক এবং বিধিবিদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে বলা যায় অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল। আপনারা মনে হয় তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। যেহেতু আপনারা প্রশাসনে বিভিন্ন জায়গায় আছেন বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছেন।’
তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন দুদুক সবকিছুই ছিল অকার্যকর। শিক্ষা, স্বাস্থ্য সব সেক্টরেই বলা যায় ভঙ্গুর অবস্থা। অপরদিকে বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নতুন সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে হয়তো এই মুহূর্তে পৃথিবীর কোন দেশই রক্ষা পায়নি। সব দেশই কম বেশি এফেক্টেড হয়েছে। বাংলাদেশে এফেক্টেড হয়েছে। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে আমরা সকলে মিলে কিভাবে পরিস্থিতির মোকাবেলা করা যায় সেটি হচ্ছে আমাদের চেষ্টা বা অব্যাহত চেষ্টা সেটা এবং আপনাদের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা আমরা অব্যাহত রেখেছি। ঠিক এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই কিন্তু বর্তমান সরকার দেশের আবহমানকালের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইছি আমরা। এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়নে সরকার দেশের প্রতিটি শ্রেণীপেশার মানুষের জীবন মান উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন পদক্ষেপের বাস্তবায়ন কাজ শুরু করেছে।’
সরকার ইতিমধ্যে একটি নীতিমালার ভিত্তিতে জনপ্রশাসন অর্থাৎ আপনাদের মাধ্যমেই কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, স্পোর্টসের যে বিষয়টি সহ দেশে ইমাম, মুয়াজ্জিম এবং অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদর্কে প্রতিমাসে আমরা সম্মানী যে ব্যবস্থা করেছি সেই কার্যক্রম শুরু করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দলমত নির্বিশেষে রাষ্ট্র সমাজের প্রত্যেকটা মানুষকে রাষ্ট্রীয় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে নিয়ে আসাই হচ্ছে আমাদের বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। আপনারা বিধিবদ্ধ নিয়ম মেনে জনগণের জন্য সরকারের গৃহীত সেই কর্মসূচিগুলি গুলিকে সুচারিতভাবে বাস্তবায়ন করবেন…. এটি কিন্তু জনপ্রশাসনের কাছে সরকারের প্রত্যাশা। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে নির্ধারিত এবং নির্বাচন প্রতিটি সেক্টরের মানুষের কাছে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন ধরনের সহায়তা বা সহযোগিতা আপনারা দয়া করে পৌঁছে দিবেন। দেশকে বন্যা-খরা থেকে মুক্ত রেখে সরকার সুষ্ঠ পানি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় সারা বছর কৃষকদের সেচ সুবিধাও নিশ্চিত করতে চায়। এই লক্ষ্যেই সরকার এক্সেভেটর যেটি আছে মেশিনটি যেটি আছে এটার পরিবর্তে জনগণকে যতটুকু সম্ভব সম্পৃক্ত করে সারাদেশে আমাদের যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে আগামী পাঁচ বছর এই কাজটি আমরা করতে চাইছি।’
মন্ত্রিপরিষদের সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী এবং নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বক্তব্য রাখেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা