ঢাকা-সিলেট ডাবল রেললাইন হবে: প্রধানমন্ত্রী
রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে ঢাকা-সিলেট রেলপথে ডাবল লাইন চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২ মে) সিলেট সিটি করপোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গণে এক সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় যখন আমি এসেছিলাম আমি প্লেনে এসেছিলাম কিন্তু যাবার সময় আমি সড়ক পথে গিয়েছিলাম নির্বাচনী জনসভা করতে করতে এবং সেদিন আমি বলেছিলাম যে সিলেট থেকে লন্ডন যেতে খুব সম্ভব নয় সাড়ে ঘণ্টা সময় লাগে কিন্তু বাই রোড যাবার অবস্থা রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যায় এবং সেদিন বলেছিলাম যে আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে, ইনশাআল্লাহ আমরা এই কাজটিতে হাত দেব যাতে এটা দ্রুত হয়।
তিনি বলেন, সরকার গঠন করার পরে এই দায়িত্বে যে মন্ত্রণালয় আছে আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি তখন জানতে পারলাম যে, খুব সম্ভবত কাজটি যখন শুরু হয় বিভিন্ন জায়গায় তাদের যে কোম্পানিগুলো কাজ করবে তাদের যে সাইট অফিস থাকে সেখানে জমি একোয়ার করতে হয় সাইট অফিস এবং বিভিন্ন কারণে ১১টি জায়গায় যেখানে সমস্যা রয়ে গিয়েছে… প্রশাসনিক সমস্যা রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে। আমি আশা করছি ইনশাল্লাহ দ্রুততম সময় আমরা এই কাজটি শুরু করতে পারব। সময় লাগবে তবে কাজটি শুরু করলে ইনশাল্লাহ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা এটা ইনশাল্লাহ শেষ করতে পারব। তার ফলে মানুষের যাতায়াতে ঢাকা টু সিলেট, সিলেট টু ঢাকা বাই রোড যাতায়াতের এত কষ্ট মানুষকে ইনশাল্লাহ ভোগ করতে হবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি রেলওয়ে যেখানে আমরা কম খরচে যাতায়াত করতে পারি। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও তাদের ব্যবসায়িক মালামাল আনা নেওয়ার ক্ষেত্রেও কম খরচে আনতে পারেন। আমরা যদি রেলওয়েটাকে ডেভেলপ করতে পারি। বর্তমান সরকার একটি উদ্যোগ গ্রহণ করছে যে, সারাদেশে কীভাবে রেল যোগাযোগটাকে বৃদ্ধি করা যায়। রেল যোগাযোগটাকে বৃদ্ধি করলে স্বাভাবিকভাবে অধিকাংশ মানুষ এটিতে যাতায়াত করবেন, এটিতে খরচ কম হবে, সেটি ব্যবসায়িক কারণে খরচ কম হবে।
সড়ক পথের থেকে রেল পথের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা রাস্তা যতই বড় করতে থাকি ততই গাড়ি নামবে রাস্তায়। ট্রাফিক বাড়বেই। আরেকটি বিষয় আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আমরা পৃথিবীর খুব সম্ভবত অষ্টম স্থানে আছে। কিন্তু আমরা ল্যান্ডওয়াইজ যদি চিন্তা করি আমাদের দেশটা হয়তো অত বড় না। অনেক দেশ থেকেই ছোট। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাংলাদেশ হচ্ছে একটি কৃষি প্রধান দেশ। সেজন্য রাস্তা যদি নির্মাণ করি, একই সঙ্গে কিন্তু আমাদের ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে, সেই বিষয়টাকে আমাদের মাথায় রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর খাবার তো আমরা বিদেশ থেকে ইমপোর্ট করা সম্ভব না এবং আমরা আলহামদুলিল্লাহ মোটামুটিভাবে খাদ্য স্বয়ংসপূর্ণ। কাজেই এটিকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। অবশ্যই রাস্তার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন করব কিন্তু রেলটাকে আমরা ডেভেলপ করতে চাই। আপনারা নিশ্চয়ই ইন্টারেস্টেড হবেন যে, ঢাকা ঢাকা সিলেট বা সিলেট ঢাকার রেল ব্যবস্থার উন্নয়ন। আমরা চেষ্টা করছি সিলেটে ডবল লাইন কীভাবে করা যায়, ডাবল লাইনের মাধ্যমে এই সমস্যাটা সমাধান করা যায়?
শুধু সিলেট নয় সারা দেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করছে বলে সরকারের উদ্যোগের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার সুরমা নদীর দুই পাড়ে সৌন্দর্য বর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে এই সুধী সমাবেশ হয়।