৩০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪৯

স্বামী-স্ত্রীর মতো নয় প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করব সমমর্যাদার: গয়েশ্বর

ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়  © সংগৃহীত

ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে বন্ধুত্বপূর্ণ, তবে তা স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়—বরং সমমর্যাদার ভিত্তিতে। তিনি দাবি করেন, যারা জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করেন না, তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ঐতিহাসিকভাবেও ভিন্ন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমার সামনে যারা বসে আছেন, তারা জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করেন না। ১৯৪৭ সালের আন্দোলনে তারা পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন না, বরং অখণ্ড ভারতের পক্ষে ছিলেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক ব্রিটিশ আমল থেকে, আমাদের নয়। আমরা প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করব, তবে তা স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়—সমমর্যাদার ভিত্তিতে।’

রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে গয়েশ্বর বলেন, ‘জন্ম হোক যথাতথা, কর্ম হোক ভালো। সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান করেছেন। তার বক্তব্যে বাস্তবতার প্রতিফলন রয়েছে এবং তিনি অতীতকে আঁকড়ে ধরে বর্তমানকে অস্বীকার করেননি। বর্তমানকে মেনে নেওয়ার জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যার মূল ভিত্তি ছিল জাতীয়তাবাদ। তাকে ভুলে গেলে আমরা গণতন্ত্র ভুলে যাব, দেশপ্রেম অবশিষ্ট থাকবে না। তিনি চাটুকারিতা বা মোসাহেবি পছন্দ করতেন না।  সমালোচনার মধ্য দিয়েই ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।’

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে গয়েশ্বর বলেন, ‘২৬ মার্চের ভাষণ আমি শুনিনি, তবে ২৭ মার্চ জিয়াউর রহমানের ভাষণ রেডিওতে শুনেছি। ২৮ মার্চ তার আহ্বানে আমি আমার এলাকায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। তিনি আত্মরক্ষার কথা বলেননি, বরং সারা জাতিকে যুদ্ধে অংশ নিয়ে বর্বর বাহিনীকে দেশ থেকে বিতাড়িত করার আহ্বান জানিয়েছেন। আমাদের আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি।’

স্পিকারের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ‘আপনি জিয়াউর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন, একসঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। বৈষম্য, বঞ্চনা, গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্তির জন্যই আমরা যুদ্ধ করেছিলাম।’