পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন অর্থমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো বা পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা নিতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বৈঠকে অংশ নেবেন। বৈঠকে অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত ২৩ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন ইতিমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এই বিশাল সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে, যা বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য ব্যয় হওয়া ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকার বাইরে একটি বড় আর্থিক চাপ।
আরও পড়ুন: পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেতন কমিশনের এই প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য গত ৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হলেও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে এর কার্যক্রম এখনো গতি পায়নি। যদিও প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকেই আংশিকভাবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে, কিন্তু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের কারণে সেই পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়ছে। ফলে সরকার বর্তমানে ব্যয় সাশ্রয়ের নীতি অনুসরণ করছে এবং সংশোধিত বাজেটে রাখা বাড়তি অর্থ অন্য জরুরি খাতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন এখন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে গড়াতে পারে। সরকার হয়তো একবারে সব সুবিধা না দিয়ে ধাপে ধাপে এটি কার্যকর করার পথে হাঁটবে। সেক্ষেত্রে প্রথমে মূল বেতন কার্যকর করা এবং পরবর্তীতে অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা যুক্ত করার সম্ভাবনা বেশি। আজকের বৈঠকেই নির্ধারিত হবে বৈশ্বিক এই সংকটকালীন সময়ে সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা ও রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করা হবে।