০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৭

পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

ঢাকা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি দেন পে-স্কেল নেতারা  © টিডিসি ফটো

সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি পে-স্কেল বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। রবিবার (২৯ মার্চ) বেলা ১১ টায় ঢাকা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মাধ্যমে স্মারকলিপি দেন সংগঠনটির সদস্যরা। সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল মালেক এবং সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা যুক্তি উত্থাপন করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্র পরিচালনা, জনসেবা প্রদান এবং নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দীর্ঘদিন ধরে তাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। এতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পদোন্নতি বঞ্চনা এবং ব্লক পোস্ট সমস্যার কারণে কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ ১১ বছরে দুইটি পে-স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটি পে-স্কেলও বাস্তবায়ন হয়নি। এ পরিস্থিতিতে নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে দাবি করা হয়।

৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পক্ষে স্মারকলিপিতে উল্লিখিত যুক্তিগুলো হলো:

​১। দীর্ঘ সময় বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত, সাধারণত ৫ বছর পরপর নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করার প্রচলন থাকলেও প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হয়নি। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

​২। দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ২০১৫ সালের তুলনায় বর্তমান খাদ্য দ্রব্য, পরিবহন, বাসা ভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে ব্যয় বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে অথচ সেই তুলনায় কর্মচারীদের বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে।

​৩। সরকারি চাকরির মর্যাদা ও আকর্ষণ কমে যাওয়া বর্তমান বেতন কাঠামো বাস্তব জীবনের ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং কর্মচারীদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ও মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

৪। প্রশাসনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে যদি সরকারি-কর্মকর্তা কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করা হয় তাহলে তাদের কর্মস্পৃহা ও দায়িত্ববোধ আরও বৃদ্ধি পাবে যা রাষ্ট্রীয় সেবার মান উন্নত করতে সহায়ক হবে।

​৫। সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি তাদের জীবনমান উন্নত হলে তা রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।