০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৫

অনলাইন ক্লাস, ছুটি বৃদ্ধি ও হোম অফিস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ

মন্ত্রিপরিষদের সভায় আজ অনলাইন ছুটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে  © ফাইল ছবি

ইরান যুদ্ধসহ বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা কারণে দেশের জ্বালানি খাতে চাপ বাড়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস ফেরানোসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। সরকারি চাকরিজীবীদের হোম অফিস ও সময়সূচিতে পরিবর্তনসহ সাপ্তাহিক ছুটিতেও পরিবর্তন আনা হতে পারে। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদের সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের স্কুলগুলোতে অনলাইন এবং অফলাইন ক্লাসের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। আমরা সব ধরনের বাংলা-ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলগুলো অনলাইন এবং অফলাইন মুডে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছি। 

এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার মন্ত্রীপরিষদের সভায় আমরা আমাদের পরিকল্পনা উত্থাপন করবো। এর পর যে সিদ্ধান্ত হয় সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।
জানা গেছে, জ্বালানি তেলের চড়া দাম, আমদানিতে খরচ বৃদ্ধি ও ডলার সংকটের কারণে এমন কৃচ্ছ্রসাধনের কথা চিন্তা করা হচ্ছে। এর আগে করোনাকালের অভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে কাজে লাগানো হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়ে সরকারি সংস্থাগুলোকে নিজস্ব প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসব প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হবে। বিশ্বে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তিন মাসের স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি জটিল হলে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নেওয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগের সার্চ কমিটিতে শিক্ষা সচিব, দুই উপাচার্য ও ঢাবির এক অধ্যাপক

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতেও উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। অপ্রয়োজনীয় ঋণ পরিহার ও কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব আছে। যদিও তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছে না সরকার। 

ঊর্ধ্বতন এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির অবনতি হলে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের বাইরেও চিন্তা করতে হতে পারে। ছয় মাস বা এক বছর মেয়াদী পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, কিছু মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কৃচ্ছ্রসাধনমূলক ব্যবস্থার খসড়া তৈরি শুরু করেছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, আলোচনায় থাকা পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে, সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়তি একদিন যোগ করা বা সপ্তাহে দুদিন ঘরে বসে কাজ; অফিসের কাজ দ্রুত করা বা সময় কমিয়ে আনা; বিদ্যুৎ খরচ কমাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় অর্ধেক ক্লাস অনলাইনে নেওয়া হতে পারে। তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।