সংসদ সদস্যদের বাসস্থান ও আসবাব তৈরিসহ যেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ‘সংসদ কমিটি’র প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মো. নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্যদের আবাসন ভবনের আসবাবপত্র তৈরি, মেরামত ও প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যতদ্রুত সম্ভব প্রস্তুত করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। প্রতিটি আসবাব পত্রের গুণগত মান যেন ভালো হয় সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধির ২৫০ ও ২৫১ বিধির বিষয়াবলী ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়; মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অবস্থিত সংসদ সদস্য ভবন ও নাখালপাড়ায় অবস্থিত সংসদ সদস্য ভবনের সংস্কার ও মেরামত সম্পর্কিত সিভিল, ই/এম ও কাঠের কারখানা বিভাগের কাজের অগ্রগতি; শেরে-ই-বাংলা নগরে অবস্থিত (এমপি হোস্টেল) ১৫৬টি অফিস কক্ষের সংস্কার ও মেরামত; সংসদ সদস্যদের জরুরি প্রয়োজনে (২৪ ঘণ্টা) চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণের জন্য জাতীয় সংসদের মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও মেডিকেল অফিসার পদায়ন/সংযুক্তি প্রদান; মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নাখালপাড়ায় অবস্থিত ফ্ল্যাটসমূহে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারকরণ এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নাখালপাড়ায় অবস্থিত ভবনসমূহের জন্য নির্ধারিত জনবল পূর্বের রেওয়াজ অনুযায়ী সদস্য ভবন শাখায় পদায়ন সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এ ছাড়া বৈঠকে সংসদ অধিবেশন কক্ষের সাউন্ড সিস্টেম এর সমস্যা চিহ্নিতকরণের জন্য গঠিত কমিটিকে সমাধানের লক্ষ্যে সুপারিশসহ আগামী ৩ এপ্রিলের ভিতর রিপোর্ট প্রদানের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে জাতীয় সংসদের স্পীকারের স্ত্রীর মৃত্যুতে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয় এবং মরহুমাকে যেন মহান আল্লাহ তায়ালা জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করেন এবং তার পরিবারকে এই শোক সহ্য করার তৌফিক দান করেন সেজন্য দোয়া করা হয়। নতুন সংসদের যাত্রায় বাংলাদেশের জনগণের উপর পরম করুণাময়ের রহমত প্রার্থনা করে মোনাজাত করা হয়।
জাতীয় সংসদ ভবন মেডিকেল সেন্টারকে আধুনিকায়ন ও চিকিৎসা সেবার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে কার্ডিয়াক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ডাক্তার পদায়ন, যন্ত্রপাতি ক্রয়, আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স ক্রয়, লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ি ক্রয় এবং স্বনামধন্য কোম্পানী থেকে ঔষধ ক্রয়ের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠক শেষে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সংসদ শুরুর আগে রেওয়াজ অনুযায়ী বৈঠক হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর সংসদ বসবে সে কারণে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধ চলছে, সমগ্র বিশ্ব টালমাটাল। কিন্তু বাংলাদেশে তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়নি। ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানী সরবরাহ চলছে। সরবরাহের ঘাটতি নেই। জনগণকে প্যানিক না হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
চিফ হুইপ জানান, ইতোমধ্যে ২ লাখ মেট্রিক টন তেলবাহী জাহাজ পৌঁছেছে। আরও দুই লাখ মেট্রিক টন লোড হচ্ছে। তেলে পর্যাপ্ত মজুত আছে। তিনি অভিযোগ করেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। বৈঠকে প্রত্যেক সংসদ সদস্যদের এ বিষয়ে খোঁজ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানাই। যারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুদ করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার।
বৈঠকে কমিটির সদস্য রকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. শহিদুল ইসলাম, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, এস, এম, জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. সাইফুল আলম এবং মো. আবুল হাসনাত অংশগ্রহণ করেন। এতে প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সার্জেন্ট এ্যাট আর্মসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।