নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন রুহুল কুদ্দুস কাজল
দেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার (২৫ মার্চ) নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রুহুল কুদ্দুস কাজলকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
রুহুল কুদ্দুস বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয়ে এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
১৯৯৫ সনে তিনি ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী হিসেবে আইন পেশা শুরু করেন। ১৯৯৬ সনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিসের অনুমতি লাভ করেন। ২০০৮ সালে দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাকে সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
জুলাই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে বেশ কয়েকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলার শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ষোড়শ সংশোধনী রিভিউ মামলা, পঞ্চদশ সংশোধনী মামলা, ডক্টর ইউনুস সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের বিপক্ষে শুনানিতে তার সাবমিশন আইনজীবী মহলে অত্যন্ত প্রশংসনীয় হয়েছে। এছাড়া, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বৈধতা সংক্রান্ত ত্রয়োদশ সংশোধনী রিভিউ মামলায় তিনি বিচারপতি খায়রুল হকের রায়ের আইনগত ত্রুটিগুলো সূক্ষ পর্যালোচনা আদালতে উপস্থাপন করেন, রিভিউ এর স্কোপ এবং জাজমেন্ট এর সংজ্ঞা বিষয়ে তার সাবমিশন বিচারকগণ অতি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেন। উক্ত মামলায় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডক্টর সৈয়দ রেফাত আহমেদ-এর অনুরোধে তিনি সফররত নেপালের প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতে যুক্তিততর্ক উপস্থাপন করেন, যা আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়াও, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাসহ বিভিন্ন মামলার শুনানিতে তার দক্ষতা বিশেষভাবে আলোচিত হয়।
এছাড়াও, কূটনীতিক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডন, যুক্তরাজ্য-এ ২০০৩-২০০৬ মেয়াদে কর্মরত ছিলেন। ছাত্র জীবনে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তিনি ১৯৮৬ সনে যশোর বোর্ড থেকে এসএসসি ও ১৯৮৮ সনে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। পরে ১৯৯৩ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স), এবং ১৯৯৪ সনে এলএলএম পরীক্ষায় সাথে উত্তীর্ণ হন। ২০০৫ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৬ সনে সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন। অতঃপর তিনি ২০০৬ সনে যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-এট-ল' সনদ অর্জন করেন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত, চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক বার অ্যাসোসিয়েশন, কমনওয়েলথ ল অ্যাসোসিয়েশন এবং ল এশিয়ার সদস্য।
জুলাই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে তিনি বিএনপির প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করেন এবং সংবিধান ও বিচার বিভাগ সংক্রান্ত সংস্কার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন।