বিরক্ত হয়ে অনেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতে লজ্জা পান: তথ্যমন্ত্রী
সাংবাদিকতার মতো মহান পেশা কতিপয় লোকের কারণে খুব বিতর্কিত হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, অনেকে বিরক্ত হয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিতে লজ্জা পান বলেও আমাকে বলেন।
আজ রবিবার (২২ মার্চ) বরিশালের আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতার মতো পেশাগুলোতে থেকে কেউ বিত্তবান হয় না। এ ধরনের পেশাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে রাখতে হয়। সেটা সারা দুনিয়াতেই তাই। বড় বড় শিল্পী, বড় বড় গায়ক কিংবা বড় বড় লেখকরা লিখে ততটা বিত্তবান হয় না, সারাজীবনই দেখা যায়, রাষ্ট্র, রাজ্য, রাজা, সমাজ তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়। কারণ এটা একটা প্রতিভা, এটা কায়িক পরিশ্রমের কাজ না যে শরীরে বল আছে করলাম। এতে এক ধরনের মেধা ও যোগ্যতা লাগে। কিন্তু এখানে তারা যদি তাদের পরিচয়ের সংকট থেকে উদ্ধার পেতে না পারে, তাহলে রাষ্ট্র ও সমাজ তো বিব্রত হয়ে যায়।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সাংবাদিকতার মতো মহান পেশা কতিপয় লোকের কারণে খুব বিতর্কিত হয়ে পড়েছে। অনেকে বিরক্ত হয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিতে লজ্জা পান বলেও আমাকে বলেন। তখন তাদের আমি সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বলি—আমি যে রাজনীতিবিদ এই পরিচয় দিতেও লজ্জা পাই। কারণ রাজনীতির নামে যা হচ্ছে তাও পরিচয় দেওয়ার মতো না। ফলে সাংবাদিকরা সাবধান, রাজনীতিবিদরা কিন্তু সাবধান হয়েছে। বিশেষ করে গত ৫ আগস্টের পরে রাজনীতিবিদরা টের পেয়ে গেছে, এখন অপসাংবাদিকতা যারা করে তাদেরও টের পাওয়ার একটা প্রক্রিয়া তৈরি করতে হবে, যাতে সৎ সাংবাদিকরা বাঁচে। যাতে সৎ সাংবাদিকদের যেন কেউ ব্ল্যাকমেইলার না বলে। ভাগ্য ভালো সবার সাথে আমার একটা সম্পর্ক থাকায় তাদের পরামর্শ নিয়ে আমি সাংবাদিকতাকে সম্মানজনক অবস্থানে নিতে চাই।
‘‘আশা করি খুব দ্রুত মহান সাংবাদিকতা পেশাকে দ্রুত সম্মানজনক কাঠামোতে দাঁড় করাতে পারব এবং এর জন্য সংবাদপত্র মালিক, সাংবাদিকসহ সরকার তিন পক্ষ মিলে বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রক্রিয়া বের করব।’’
এসময় তিনি পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীকে যদি জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হয়, তাহলে গণমাধ্যমে যারা কাজ করেন তাদেরও জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী হলে যেমন যা খুশি তাই করা যায় না, তার প্রমাণ তো শেখ হাসিনা। তেমনি কোনো গণমাধ্যম, কোনো সাংবাদিক বা কোনো সংবাদপত্রের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড থাকলেই কিন্তু যা তা করা যাবে না।