২০ মার্চ ২০২৬, ২১:৩১

শ্রমিকবান্ধব প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা: বেতন-বোনাসে স্বস্তির ঈদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মাহাদী আমিন  © টিডিসি ফটো

বহু বছর ধরে ঈদের আগে এক পরিচিত দৃশ্য ছিল, দেশজুড়ে অদৃশ্য উৎকণ্ঠা থাকতো। শ্রমিক অসন্তোষ, বকেয়া বেতন, রাস্তা অবরোধ, আর ঘরে ফেরার অনিশ্চয়তাই যেন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

তবে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঈদকে ঘিরে শ্রমজীবী মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি দেখা যাচ্ছে। রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস খাতসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় কর্মরত প্রায় সব শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তার বেতন এবং ঈদ বোনাস আগেভাগেই নিশ্চিত হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।

শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশে, প্রায় সব কারখানাই ফেব্রুয়ারির বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে। রপ্তানিমুখী বেশিরভাগ কারখানা মার্চ মাসের বেতনেরও বড় অংশ প্রদান করেছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও নজরদারিতে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর সম্পৃক্ততা ও তদারকিতে, এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের শ্রম ও আন্তরিকতায়, এই কর্মযজ্ঞ সম্ভব হয়েছে। আমাদের নজিরবিহীন সব উদ্যোগের পেছনে ছিল মূল স্টেকহোল্ডারদের সাথে ধারাবাহিক আলোচনা এবং সমন্বিত পরিকল্পনা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা। 

পুলিশ, প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন, শ্রমিক সংগঠন, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন দপ্তর, এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ একযোগে কাজ করেছেন, যাতে কোনো শ্রমিক তাঁর ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না হন এবং কারও ঈদের আনন্দ বিঘ্নিত না হয়।

সরকার, শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধিদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক, ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা শনাক্তকরণ, সমস্যা সংকুল কারখানা নিয়ে পৃথক কৌশল, মাঠপর্যায়ে মনিটরিং টিম গঠন, জরুরি সমন্বয় সভা, এবং সংস্থাগুলোর নিয়মিত তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত — প্রতিটি স্বচ্ছ পদক্ষেপ কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে।

পাশাপাশি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ এবং তাদের সহায়তায় শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধে প্রয়োজনীয় ঋণ বা অর্থায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই বহুমাত্রিক উদ্যোগের ফলে, শ্রমজীবী মানুষ নির্বিঘ্নে ও স্বস্তির সঙ্গে ঘরে ফিরেছেন। পরিবারের কাছে উৎসবমুখর পরিবেশে ফিরে যাওয়ার অনুভূতি কেবল ব্যক্তিগত নয়; বরং সামষ্টিক আন্তরিকতার প্রতিফলন।

জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার শ্রমিকবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে এবং দেশের পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিষয়েও গভীরভাবে দায়বদ্ধ। তাই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মাঝে, প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই রাষ্ট্র সক্রিয় রয়েছে। 

প্রতিটি শ্রমজীবী মানুষের প্রতি গণমানুষের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের এই মমত্ববোধ ও অঙ্গীকার অনিঃশেষ থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

লেখক: মাহাদী আমিন, প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা