মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বাংলাদেশের বাজারে জ্বালানি সংকট
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক গনমাধ্যম ইউরো নিউজ। রবিবার (৮ মার্চ) দেশের জ্বালানি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হওয়ায় জ্বালানি নিয়ে সংকট চলছে বলে দাবি করে তারা।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় রবিবার বাংলাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে গাড়ি ও চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সংকটের আশঙ্কায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে জ্বালানি সংগ্রহ করছেন সাধারণ মানুষ।
সেখানে আরো বলা হয় রাজধানী ঢাকার অনেক পাম্পে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য সারারাত অপেক্ষা করতে দেখা গেছে চালকদের। সরকারি রেশন ব্যবস্থার আওতায় বর্তমানে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় পাম্প মালিকরা প্রবল চাপের মুখে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুত বা 'প্যানিক বায়িং' শুরু করেছেন।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং গ্যাসের ৭০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। চলমান যুদ্ধের ফলে এই সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, সংকটে কিছুটা স্বস্তি আনতে মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), ফার্নেস অয়েল, এলপিজি এবং কনডেনসেটবাহী ছয়টি জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া এলএনজি, এলপিজি ও ডিজেলবাহী আরও পাঁচটি জাহাজ বর্তমানে বাংলাদেশের পথে রয়েছে বলে জানােনো হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।