খামেনি ও দুই বাংলাদেশী নিহতের ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কড়া প্রতিক্রিয়া
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিসাইল হামলায় নিহত দুইজন বাংলাদেশী নাগরিকের প্রতি সমবেদনা ও সাতজন আহতের অবস্থা জানিয়ে পৃথক দুইটি বিবৃতি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্যাডে পৃথক বিবৃতি দুইটি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে নিহত বাংলাদেশীদের দেশে ফেরানো এবং আহতদের খোঁজখবরের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরব আমিরাতে আটকা পড়া বাংলাদেশি জাহাজের বিষয়েও এতে বলা হয়েছে।
আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর খবরে দুঃখ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সরকার গভীর দুঃখের সঙ্গে জানতে পেরেছে যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি একটি লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় নিহত হয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সরকার ভ্রাতৃপ্রতিম ইরানের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, সংঘাত কোনো সমাধান বয়ে আনে না। বরং সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমেই বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব।’
মধ্যপ্রাচ্যে দুই বাংলাদেশী নাগরিক নিহত ও সাতজন আহতের ঘটনায় সমবেদনা জানিয়ে আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে, সিলেটের বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা মো. সালেহ আহমেদ একটি বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলার ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের আঘাতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হলে মরদেহ দেশে প্রেরণের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘বাহরাইনে একজন বাংলাদেশি নিহত এবং আরও তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন এ বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।’
কুয়েতে চারজন বাংলাদেশি নাগরিক আহত হওয়ার খবর জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের মো. আমিনুল ইসলাম, পাবনার সাথিয়ার মো. রাবিউল ইসলাম, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মো. মাসুদুর রহমান এবং কুমিল্লার চান্দিনার মো. দুলাল মিয়া বেসামরিক বিমানবন্দরের নিকটে ড্রোন হামলায় আহত হয়েছেন। তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং রাষ্ট্রদূত ব্যক্তিগতভাবে হাসপাতালে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন।’
আরব আমিরাতে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ আটকা পড়ার বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে আটকা পড়েছে। দূতাবাস জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে। জাহাজের সকল নাবিক নিরাপদ আছেন।’
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি নিয়ে বলা হয়েছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকার গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করছে এবং পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত ষাট লাখেরও বেশি বাংলাদেশির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সতর্ক থাকেন এবং সরকারের জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করেন।’