২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৪২

‘বর্তমান পে স্কেলের বেতন ভালো না লাগলে চাকরি ছেড়ে দিতে দিতে পারেন’

মো. আসাদুজ্জামান  © সংগৃহীত

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বর্তমান পে স্কেলের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার মধ্যে কাজ করতে অনিচ্ছুক সরকারি কর্মচারীরা চাইলে ‘ব্যাগ অ্যান্ড ব্যাগেজ’সহ চাকরি ছেড়ে দিতে পারেন। সরকারি সেবায় দুর্নীতি ও ঘুষের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে বলেও তিনি জোর দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঝিনাইদহের শৈলকুপা ডিগ্রি কলেজে দলীয় নেতা-কর্মীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, রাজনীতি কোনো ব্যবসা নয়। তিনি বলেন, “কেউ যদি ভয়ভীতি বা প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকা কামানোর স্বপ্ন দেখে, তবে তার রাজনীতিতে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।”

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “সরকারি অফিস বা আদালতে কেউ ঘুষ বা কমিশন চাইলে আমাদের জানান। আমরা তাদের শিকড়সহ উপড়ে ফেলব।”

গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ক্ষমতায় আসার পর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এটিই ছিল ঝিনাইদহে তার প্রথম সফর। এর আগে ঝিনাইদহ শহরের সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দেব। কেউ যদি এটাকে দুর্বলতা মনে করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কালোবাজারি দমনে ‘লোহিত কঠোর হাতে’ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী নাগরিকদের মাদক ব্যবসা বা রাজনৈতিক কর্মীদের অবৈধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “স্থানীয় প্রশাসন থেকে সাড়া না পেলে আমাকে সরাসরি এসএমএস করুন। আমরা মাদকের বিষাক্ত দন্ত ভেঙে দেব।”

সরকারের সুশাসন ও স্বচ্ছ প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকারি দায়িত্বের কারণে আগে সবার সঙ্গে দেখা করতে না পারায় দুঃখিত। তবে এখন থেকে প্রতি ছুটির দিনে তিনি নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে দেখা করবেন বলে আশ্বাস দেন।

শৈলকুপাকে একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তরের অঙ্গীকার করে তিনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন।