ফ্যামিলি কার্ডের নামে নিরীহ মানুষ থেকে টাকা নেওয়ার খবর, কঠোর বার্তা সমাজকল্যাণমন্ত্রীর
ফ্যামিলি কার্ডের নামে নিরীহ মানুষ থেকে টাকা নেওয়ার খবর পাচ্ছেন বলে জানিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, সরকার ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড করতে কোনো টাকা লাগবে না। একটি মহল কার্ড করার নামে নিরীহ মানুষদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে বলে খবর পাচ্ছি, তারা প্রতারণা করছে। এই কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেয়া হবে। কোনো টাকার প্রয়োজন নেই। কেউ টাকা চাইলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়ার অনুরোধ করব।
আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ধানমন্ডিতে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফিং করে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি রাজধানীর কড়াইল বস্তি, ময়মনসিংহে একটি চক্র ফ্যামিলি কার্ড করার নামে টাকা দাবি করছে। আমরা স্পষ্ট করে বলেছি এই কার্ড করতে কোনো টাকা লাগবে না। কেউ এমনটা করলে তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যমকে জানাতে বলব।’
আরও পড়ুন : মন্ত্রীপরিষদের শপথ থেকে রেগে বের হয়ে যাওয়ার ব্যাখা দিলেন গয়েশ্বর
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা ইউনিভার্সেল (সার্বজনিন) কার্ড। এখানে কোনো ধরণের ভুল করার সুযোগ নেই। এখানে দলীয় লোকদের কোনো সম্পৃক্ততারও সুযোগ নেই। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে এটি তালিকাভুক্ত করা হবে। ওয়ার্ড পর্যায়ে একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা এটি তদারকি করবেন। এখানে কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেয়ার কিংবা বাড়তি যুক্ত করারও সুযোগ নেই। এখানে সবাইকেই যুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত এই শ্রেণির মানুষ সবার আগে কার্ড পাবেন। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের নারীরাও কার্ড পাবেন। স্বাভাবিকভাবেই তারা পরে পাবেন। সবচেয়ে ভার্রানাবল ৪০ শতাংশ মানুষ সবার আগে পাবেন।
আরেক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহিদ বলেন, প্রথমে আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করব। পরে উপজেলা পর্যায়ে এসে এই তথ্যগুলো পুনরায় যাচাই করব। প্রতিমাসে আমাদের সমাজকল্যাণ কর্মী আছে, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মী আছে, কৃষি বিভাগের কর্মীরা আছে তাদেরকে দিয়ে তথ্য নেয়ার মাধ্যমে আমরা ঢাকা থেকে বলে দিতে পারব ওমুক গ্রামে কে এই সুবিধাভোগী।
তিনি বলেন, গ্রাহক কোন মাসে টাকা না পেলে অনলাইন এবং অফলাইন উভয় প্রক্রিয়ায় অভিযোগ করতে পারবেন। অফলাইনে উপজেলা পরিষদ/ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে গিয়ে অভিযোগ জানানো যাবে। ওয়ার্ড লেভেলে একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা এবং ৪ জন কর্মচারী থাকবে এসব বিষয় তদারকির জন্য। আর এই টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে গ্রাহক যে মাধ্যমে টাকা পেতে চাইবেন সেভাবে সরাসরি তার কাছে চলে যাবে। কেউ যদি টাকা না তুলে সেটাও অটোমেটিক্যালীভাবে সফটওয়ারের মাধ্যমে বোঝা যাবে উনি টাকা তোলেননি।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ বলেন, আমরা খুবই আশাবাদী এই উদ্যোগ নিয়ে। যদি মাঠ পর্যায়ের তথ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ করা যায় তাহলে অর্থ বিতরণও সঠিকভাবে করা যাবে।