নির্বাচনে অনিয়ম করলে চাকরি হারাতে পারেন ভোট কর্মকর্তা
ঘনিয়ে আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোটের নির্বাচন। নির্বাচন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিতসহ নানান পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তবর্তীকালীণ সরকার এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
পূর্বের একাধিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান পদ্ধতি, ভোটগ্রহণ এবং নির্বাচনী দায়িত্বপালনের বিষয়ে রয়েছে নানান অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে- ভোটগ্রহণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অসদুপায় অবলম্বন করেছেন। এছাড়া দিনের ভোট রাতে হয়েছে, মৃত মানুষের ভোট দেওয়া হয়েছে- এমন অনেক অভিযোগও রয়েছে।
তবে এবার নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ব্যাপারে কঠোর আইন চালু করেছে সরকার। এ আইন অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনায় অনিয়ম করলে চাকরি হারাতে পারেন তারা।
বাংলাদেশের নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ এর অধিকতর সংশোধিত নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ নামে অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। এ অধ্যাদেশে নির্বাচনী দায়িত্বে অবহেলাকারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শাস্তির বিধান কঠোর করা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী— কোনো নির্বাচন কর্মকর্তা (প্রিজাইডিং অফিসার), সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য ইচ্ছাকৃতভাবে কমিশন বা রিটার্নিং অফিসারের আদেশ বা নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলে বা অস্বীকৃতি জানালে বা নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো আইনের বিধান ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করলে অথবা কর্তব্যে অবহেলা করলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে।
এই অসদাচরণের জন্য নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্ত করতে পারবে, বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করতে পারবে, পদাবনতি করতে পারবে অথবা তার পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি অনধিক ২ বছরের জন্য স্থগিত রাখতে পারবে।
এছাড়াও কমিশন চাইলে তাকে চাকরি থেকে অনধিক ২ মাসের জন্য সাময়িকভাবে বরখাস্তও করতে পারবে।
নতুন অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, অধ্যাদেশটি লঙ্ঘনও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এতে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর কমিশনের আদেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
এছাড়াও এ বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে কোনো মতবিরোধ দেখা দিলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই প্রাধান্য পাবে বলে অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।