০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৩৪

নির্বাচনের আগে পে-স্কেলের গেজেট দাবি, যা বলছে অর্থ মন্ত্রণালয়

অর্থ মন্ত্রণালয়  © ফাইল ছবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট জারির দাবিতে আন্দোলন করছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। গত তিনদিন টানা কর্মবিরতির পর আগামীকাল বৃহস্পতিবারও কর্মবিরতি পালন করার কথা রয়েছে কর্মচারীদের। টানা কর্মবিরতির ফলে সরকারি অফিসগুলোতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

কর্মচারীদের টানা কর্মবিরতি এবং আগামী শুক্রবার মহাসমাবেশ ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তারা সাথে কথা বলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। তারা বলছেন, এর আগেও কর্মচারীরা আন্দোলন করেছেন। আন্দোলন করা তাদের অধিকার। তবে বেশি চাপাচাপি করলে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নবম পে-স্কেল যেন বাস্তবায়ন করা যায় সেজন্য অন্তর্বর্তী সরকার অর্থের সংস্থান করে রেখেছে। তবুও এ ধরনের আন্দোলনের যৌক্তিকতা দেখছেন তারা।

কর্মচারীদের এ আন্দোলন এবং নির্বাচনের পূর্বে নবম পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে সরাসরি নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি অর্থ মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, ‘নির্বাচনের পূর্বে নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কেননা উপদেষ্টা পরিষদের সভায় পে-স্কেল নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এ অবস্থায় নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এত বড় সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকার নেবে না বলেই মনে করেন তারা।’

কর্মচারীদের সমাবেশ ও ভুখা মিছিল সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তারা আরও বলেন, এর আগে সচিবালয়ে কর্মরচারীরা অর্থ উপদেষ্টাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। এর বিনিময়ে কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। নির্বাচনের পূর্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘটনা সরকার ভালোভাবে নেবে বলে মনে হয় না।’

নির্বাচনের আগে পে-স্কেল নিয়ে বড় খবর দিলেন অর্থ উপদেষ্টা
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পরবর্তী সরকারের জন্য একটা স্বস্তিদায়ক অর্থনৈতিক অবস্থা রেখে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। ৫ আগস্টের পর নড়বড়ে অর্থনীতি দেড় বছরে ঠিক হয়েছে।  

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এ কথা জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা। 

তিনি বলেছেন, তবে আগের সরকারের অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থান কমে গেছে। সেটা চ্যালেঞ্জ হবে কিছুটা, যোগ করেন অর্থ উপদেষ্টা।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পে স্কেলের জন্য অর্থের যোগান করে দিয়ে গেছে এই সরকার। পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এসে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে না।

হয়তো বাস্তবায়ন করতে কিছুটা সময় লাগবে বলে এমন তথ্য জানিয়েছেন সালেহউদ্দিন।

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকার গণভোটের জন্য বরাদ্দ রেখেছে। কিন্তু 'হ্যাঁ' ভোটের জন্য নয়। গণভোটের কারণে এবার নির্বাচনে অন্যবারের চেয়ে বরাদ্দ বেশি লাগছে।