গোপালগঞ্জে ১৯৭টি ভোটকেন্দ্র অতিগুরুত্বপূর্ণ, ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জসহ চার জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভোটের আগে ও ভোটের দিন নাশকতা, সহিংসতা এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির আশঙ্কায় এসব এলাকাকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও ফরিদপুর জেলায় অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার ইতিহাস এবং সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে আলাদা নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর ওপর হামলা এবং একই বছরের জুলাই মাসে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলায় মোট ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৯৭টিকে ‘অতিগুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক ভোটার মনে করছেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
জেলায় তিনটি সংসদীয় আসন রয়েছে। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ-১ আসনে ১৩৮টি, গোপালগঞ্জ-২ আসনে ১৫১টি এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনে ১০৮টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। অতীতের নির্বাচনগুলোতে বড় ধরনের সহিংসতা না ঘটলেও বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনার নজির রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণার প্রেক্ষাপটে বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে বাড়তি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, ‘শতভাগ সতর্ক থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন কাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ ও অতিগুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি আরও জোরদার করা হবে।’
সচেতন মহলের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করাই প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বা একপ্রকার ‘অগ্নিপরীক্ষা’।