‘আমাদের স্বপ্নগুলোকে গলা টিপে হত্যা করবেন না’
৪৫তম বিসিএসে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেট থেকে বাদ পড়া ৫৬ জন প্রার্থীর দ্রুত সম্পূরক গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের অভিযোগ, মেডিকেল ও ভেরিফিকেশনসহ সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরও তাঁদের গেজেটভুক্ত না করার কারণ জানানো হয়নি। অবিলম্বে তাঁদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং আগামী ১ নভেম্বর সহকর্মীদের সঙ্গে যোগদানের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের(ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে এসব দাবি জানান ৪৫তম বিসিএসে বৈষম্যের শিকার গেজেট বঞ্চিতরা।
সংবাদ সম্মেলনে ৪৫তম বিসিএসে গণপূর্ত ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মো. সানি মেরাজ জিহান বলেন, “সংবিধানের ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদে সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এই সমতার প্রতিফলন গেজেটের ক্ষেত্রে দেখতে পাই না। আচ্ছা, এই ছোট্ট জীবনে এত বৈষম্য করে কার কী লাভ?”
গেজেট বঞ্চিত মো. ফজলে ইফফাত অনিক বলেন, যে রাষ্ট্র বৈষম্যহীন আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে, সেই রাষ্ট্রই ৫৬ জনের মধ্যে অনেকের সঙ্গে বৈষম্য করে তাঁদের গেজেট থেকে বঞ্চিত করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “৪৯তম বিসিএসে গেজেট পেলে ৪৫তম বিসিএসে কেন তাঁর প্রতিশ্রুতি থেকে বঞ্চিত হবো? আমাদের মামা, চাচা, খালু নেই; আমাদের আছে মহান সংবিধান, সাম্যের স্লোগান আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি।”
তিনি আরও বলেন, ভেরিফিকেশনের দোহাই দিয়ে আর কতজনের সঙ্গে অবিচার করা হবে? অবিলম্বে ৪৫তম বিসিএসে গেজেট বঞ্চিত সবাইকে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ২০২২ সালে শুরু হওয়া ৪৫তম বিসিএসের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ মোট ১ হাজার ৬০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নেন প্রার্থীরা। তিন লাখের বেশি পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ১ হাজার ৮০৭ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। পরে মেডিকেল পরীক্ষা ও ভেরিফিকেশন শেষে ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর ১ হাজার ৭০২ জনের গেজেট প্রকাশ করা হয়। এতে ১০৫ জন বাদ পড়েন। তাঁদের মধ্যে ৪৮ জন স্বেচ্ছায় মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ নেননি এবং বাকি ৫৬ জন সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করেও চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন বলে দাবি করেন তাঁরা।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গেজেট থেকে বাদ পড়া ৫৬ জনের মধ্যে যাঁদের নামে ফৌজদারি মামলা নেই, তাঁদের দ্রুত সম্পূরক গেজেট প্রকাশের দাবি জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নাগরিক হিসেবে বৈষম্যের শিকার না হওয়ার নিশ্চয়তা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং আগামী ১ নভেম্বর অন্য সুপারিশপ্রাপ্তদের সঙ্গে যোগদানের সুযোগ চান তাঁরা।
বক্তারা বলেন, এর আগে ৪৯তম বিসিএসের গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনার পর দ্রুত সম্পূরক গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগের উদাহরণ টেনে তাঁরা ৪৫তম বিসিএসের গেজেট বঞ্চিতদের বিষয়েও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রার্থীরা বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, তাঁরা বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় সরকারের আন্তরিকতা ও মানবিকতার ওপর বিশ্বাস রাখতে চান। তাঁদের দাবি, “আমরা ৫৬টি পরিবার, ৫৬টি স্বপ্ন। আমাদের স্বপ্নগুলোকে গলা টিপে হত্যা করবেন না।” তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ এই প্রত্যয়ে তাঁরাও অন্তর্ভুক্ত হতে চান এবং স্বাভাবিকভাবে বাঁচার সুযোগ চান।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, শনিবার দুপুর ১২টার মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশা করছেন তাঁরা। অন্যথায় কঠোর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেন গেজেট বঞ্চিতরা।