সবচেয়ে বেশি তৃতীয় শ্রেণিতে, সরকারি চাকরিতে কোন গ্রেডে কত পদ ফাঁকা?
বর্তমানে সরকারি চাকরিতে মোট শূন্য পদ রয়েছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। সবচেয়ে বেশি শূন্য পদ রয়েছে তৃতীয় শ্রেণির চাকরিতে, যার পরিমাণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি। এগুলো ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জনবল সংক্রান্ত হালনাগাদকৃত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত ‘স্ট্যাটিসটিক্স অব পাবলিক সার্ভেন্টস ২০২৪’ অনুযায়ী এই চিত্র সামনে এসেছে।
আজ রবিবার (২১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ১১তম দিনে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।
সরকারের এই বিপুলসংখ্যক শূন্য পদ পূরণে ইতোমধ্যেই স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী জানান, দেশের সরকারি অফিসগুলোতে বর্তমানে সর্বমোট শূন্য পদের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে শূন্য পদের সংখ্যা ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, যা ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের আওতাভুক্ত। দ্বিতীয় শ্রেণিতে অর্থাৎ ১০ম থেকে ১২তম গ্রেডে শূন্য পদ রয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি। সবচেয়ে বেশি শূন্য পদ রয়েছে তৃতীয় শ্রেণিতে, যার পরিমাণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি এবং এগুলো ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণিতে অর্থাৎ ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ খালি রয়েছে। এর বাইরে অনারারি, নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত ও চুক্তিভিত্তিক অন্যান্য ক্যাটাগরিতে আরও ৮ হাজার ১৩৬টি শূন্য পদ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই বিশালসংখ্যক শূন্য পদ পূরণের জন্য সরকার ইতোমধ্যেই ৬ মাস, ১ বছর এবং ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ৬ মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৮৭৯টি শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি আগামী ১ বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৯টি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ৫ বছরের মধ্যে ৩ হাজার ১১০টি শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। ‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে পাঁচ লক্ষ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ’-এর লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা এবং শূন্য পদে নিয়োগের তথ্য প্রেরণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে ইতোমধ্যেই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী।