০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২০:১৮

প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড দলে এক সঙ্গে খেলবেন ‘বেলিংহ্যাম ব্রাদার্স’

বেলিংহ্যাম ব্রাদার্স  © সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে একসঙ্গে ডাক পেয়েছেন দুই ভাই জুড বেলিংহ্যাম ও জুব বেলিংহ্যাম। আগামী নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে ক্রোয়েশিয়া ও স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য ঘোষিত কোচ থমাস টুখেলের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন দুজন। তাঁদের পাশাপাশি প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন ফুলহ্যামের ১৯ বছর বয়সী মিডফিল্ডার জশ কিংও।

সর্বশেষ ফিফা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের তৃতীয় স্থান অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন জুড বেলিংহ্যাম। রিয়াল মাদ্রিদ ও জাতীয় দলের হয়ে নিজের পারফরম্যান্সে তিনি এখন দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য তারকা। এবার ছোট ভাই জুবের সঙ্গে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

প্রথমবার ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে ডাক পাওয়া জুব বেলিংহ্যাম ও জশ কিং দুজনই মিডফিল্ডার। ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-২১ দলের অধিনায়কত্ব করার পাশাপাশি বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন জুব। তাঁর সেই পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে কোচ টুখেলের।

অন্যদিকে, দ্রুতই ইংল্যান্ডের মূল দলে জায়গা করে নিয়েছেন জশ কিং। ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার চলতি মৌসুমে ফুলহ্যামের মিডফিল্ডে নিজের জায়গা শক্ত করেছেন। প্রিমিয়ার লিগে দুটি গোল করে তিনি দলটির সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। সর্বশেষ বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ডের প্রস্তুতি স্কোয়াডেও ছিলেন কিং। পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়েও নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন তিনি।

তবে টুখেলের ঘোষিত স্কোয়াডে জায়গা পাননি চেলসির ফরোয়ার্ড কোল পালমার, ম্যানচেস্টার সিটির ফিল ফোডেন ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তরুণ মিডফিল্ডার কোবি মাইনো। আগের আন্তর্জাতিক বিরতিতে চোটের কারণে দল থেকে নাম প্রত্যাহার করেছিলেন পালমার। বর্তমানে তাঁর কোনো চোটের সমস্যা নেই এবং তিনি ফিট রয়েছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম। তবে আগেরবার ছোট চোটের কারণে দল থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি ইংলিশ কোচের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে ক্লাবের হয়ে ১১ ম্যাচে পাঁচ গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট করেছেন পালমার।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার কোবি মাইনোও অনির্দিষ্ট চোটের কারণে আগের স্কোয়াড থেকে নাম প্রত্যাহার করেছিলেন। এর আগে বিশ্বকাপের দলে জায়গা পেলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি।

অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড ফিল ফোডেনও দলে জায়গা পাননি। চলতি মৌসুমে ছয় ম্যাচে ছয়টি গোল বা অ্যাসিস্টে অবদান রাখলেও তাঁকে বিবেচনায় নেননি টুখেল। বিশ্বকাপের দল এবং পরবর্তী আন্তর্জাতিক বিরতির স্কোয়াডেও জায়গা হয়নি এই ইংলিশ তারকার।

চোটের কারণে দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ডিফেন্ডার ট্রেভোহ চালোবাহ ও টিনো লিভ্রামেন্তো। ম্যানচেস্টার সিটির প্রধান কোচ এনজো মারেসকা লেফট-ব্যাক নিকো ও’রাইলিকে ‘শতভাগ ফিট’ মনে না করায় তিনিও ইংল্যান্ডের স্কোয়াডে জায়গা পাননি।

তবে রিয়াল মাদ্রিদের রাইট-ব্যাক ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড দলে নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন। চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ফিরেছেন ইন্টার মিলানের ফুল-ব্যাক জেড স্পেন্স। এ ছাড়া আর্সেনালের ডিফেন্ডার বেন হোয়াইটকেও দলে ডেকেছেন টুখেল।

ইংল্যান্ডের ঘোষিত স্কোয়াডে গোলরক্ষক হিসেবে রয়েছেন জর্ডান পিকফোর্ড, জেমস ট্রাফোর্ড ও জেসন স্টিল। ডিফেন্ডার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন এজরি কনসা, মার্ক গুয়েহি, জ্যারড ব্র্যানথওয়েট, ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড, লুইস হল, জ্যারেল কোয়ানসা, জেড স্পেন্স ও বেন হোয়াইট। মিডফিল্ডে রয়েছেন জুড বেলিংহ্যাম, জুব বেলিংহ্যাম, জশ কিং, জেমস গার্নার, এলিয়ট অ্যান্ডারসন, এবেরেচি এজে, মাইলস লুইস-স্কেলি ও ডেকলান রাইস। আর ফরোয়ার্ড হিসেবে দলে আছেন হ্যারি কেইন, মরগান গিবস-হোয়াইট, ডমিনিক ক্যালভার্ট-লেউইন, অ্যান্থনি গর্ডন, রিও এনগুমোহা ও মরগান রজার্স।