০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯:১৫

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের কিশোরদের বাজিমাত, পুরস্কারে ভাসাল বাফুফে

পুরস্কারে ভাসাল বাফুফে  © সংগৃহীত

ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে ই-স্তর প্লেট পর্বে রানার্সআপ হয়ে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দারুণ পারফরম্যান্সে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনা কিশোর ফুটবলারদের বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া হয়। পরে দুপুরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) উদ্যোগে দেওয়া হয় সংবর্ধনা। সেখানে দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের জন্য আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের হাতে এক লাখ টাকা করে পুরস্কারের চেক তুলে দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া দলটির সাফল্যে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও তিন লাখ টাকা আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে কিশোর ফুটবলারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়াটি আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেখছেন। এ খেলোয়াড়রা যেন হারিয়ে না যায়, সেই দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে আমরা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ শুরু করেছি। সরকার এ বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিক।’

খেলোয়াড়দের প্রতিভা ধরে রাখা এবং তাদের যথাযথ পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, এই সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি অর্জনে রূপ দিতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালও তরুণ ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘পুরো বিশ্বে বাংলাদেশ মিশন বা অ্যাম্বাসি আছে ৮০টির মতো। তবে ফুটবল ছড়িয়ে আছে ২০৫টি দেশে। আমাদের খেলোয়াড়রা যে পারফরম্যান্স করেছে তার জন্য তাদের প্রাণখোলা অভিনন্দন। তাদের এ অর্জন আমাদের মুগ্ধ করেছে। আমাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে ধন্যবাদ জানাই।’

দলের সাফল্যে সহযোগিতার জন্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককেও ধন্যবাদ জানান বাফুফে সভাপতি।

টুর্নামেন্টের গ্রুপপর্বে ৫ ম্যাচে একটি জয়, দুটি ড্র ও দুটি হার নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ইউরোপের দল ওয়েলসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে ফাহিম হাসানের দল। পরের ম্যাচে পর্তুগালের কাছে ৩-১ গোলে হারের পর ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে তারা। তৃতীয় দিনে বুরুন্ডির কাছে ২-০ গোলে হেরে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

তবে শেষ ম্যাচে ফিজিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় কিশোর ফুটবলাররা। এই জয়ের সুবাদে প্লেট পর্বে খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ।

সেখানে নকআউট পর্বে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয় দলটি। শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে টাইব্রেকারে সিশেলসকে হারায় বাংলাদেশ। এরপর শেষ ষোলোতে একইভাবে টাইব্রেকারে সিঙ্গাপুরকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে ছিল আরও বড় চমক। প্রতিপক্ষকে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে গ্যাবনকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফাহিম হাসানের দল।

শিরোপার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়া হয়নি বাংলাদেশের। ফাইনালে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের কাছে ৪-১ গোলে হেরে ই-স্তর প্লেট পর্বে রানার্সআপ হয় ফাহিম হাসানরা।