০১ নভেম্বর ২০২৬, ২১:১০

৫ হলুদ কার্ডের পরও নিষেধাজ্ঞামুক্ত মেসি, কীভাবে?

লিওনেল মেসি  © সংগৃহীত

সাধারণত যেকোনো লিগে পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখলে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতো লিওনেল মেসিকে। তবে রবিবার নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ম্যাচে খেলতে কোনো বাধা নেই আর্জেন্টাইন সাবেক অধিনায়কের। মূলত মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত একটি নিয়মের কারণে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়েছেন তিনি। এই নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্টসংখ্যক ম্যাচ টানা শৃঙ্খলাভঙ্গ ছাড়া খেলতে পারলে কোনো খেলোয়াড়ের হলুদ কার্ডের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়।

এমএলএসের গুড বিহেভিয়ার ইনসেনটিভ কী?

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) এফসি সিনসিনাটির বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ২-২ গোলের ড্র ম্যাচে ২০২৬ এমএলএস মৌসুমে নিজের পঞ্চম হলুদ কার্ড দেখেন মেসি। ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে সিনসিনাটি ডিফেন্ডার স্যামুয়েল গিদির সঙ্গে সংঘর্ষের একটি ঘটনার পর রেফারি আরমান্দো ভিয়ারিয়ালের কাছে গিয়ে প্রতিবাদ জানান আর্জেন্টাইন এই তারকা। এ ঘটনায় তাকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।

এমএলএসের নিয়মিত মৌসুমের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, পাঁচটি হলুদ কার্ড পেলে সাধারণত ২৫০ ডলার জরিমানা এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেতে হয়। সেই নিয়ম কার্যকর হলে আগামী রবিবার নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারতেন না মেসি।

তবে লিগের 'গুড বিহেভিয়ার ইনসেনটিভ' নিয়মের কারণে সেই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়েছেন তিনি। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় টানা পাঁচ ম্যাচে হলুদ কার্ড, লাল কার্ড কিংবা অতিরিক্ত কোনো শাস্তি ছাড়াই খেলতে পারলে তার মোট হলুদ কার্ডের সংখ্যা থেকে একটি কমিয়ে দেওয়া হয়।

চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে এমন দুটি ধারাবাহিকতা পূরণ করেছেন মেসি। ফলে তার মোট হলুদ কার্ডের সংখ্যা পাঁচ থেকে কমে তিনে দাঁড়িয়েছে। এ কারণেই ইন্টার মায়ামির পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন তিনি।

লিগের আনুষ্ঠানিক 'কম্পিটিশন গাইডলাইনস'-এ এই নিয়মের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, 'কোনো খেলোয়াড় টানা পাঁচটি ম্যাচে হলুদ কার্ড, লাল কার্ড কিংবা অতিরিক্ত কোনো শাস্তি ছাড়া অংশ নিলে তার মোট হলুদ কার্ডের সংখ্যা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি কমিয়ে দেওয়া হবে।'

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, 'কোনো খেলোয়াড়ের হলুদ কার্ডের সংখ্যা কখনো শূন্যের নিচে নামবে না। অর্থাৎ, গুড বিহেভিয়ার ইনসেনটিভের মাধ্যমে কার্ডের সংখ্যা সর্বোচ্চ শূন্য পর্যন্ত নামানো যাবে। এমএলএসের নিয়মিত মৌসুমে একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ তিনবার এই সুবিধা নিতে পারবেন।'

টানা পাঁচ ম্যাচের শর্ত পূরণ হওয়ার পরই কার্ড কমানোর বিষয়টি কার্যকর হয়।

যেভাবে মেসির পাঁচ হলুদ কার্ড কমে 'তিন'

২০২৬ এমএলএসের নিয়মিত মৌসুমে মেসির শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কীভাবে এই নিয়মের কারণে নিষেধাজ্ঞার সীমা থেকে দূরে রয়েছেন তিনি। চলতি মৌসুমে পাঁচবার হলুদ কার্ড দেখলেও টানা পাঁচ ম্যাচ করে শৃঙ্খলাভঙ্গ ছাড়া খেলার দুটি ধারাবাহিকতা পূরণ করায় তার কার্ডের সংখ্যা দুই দফায় কমানো হয়েছে।

তার হলুদ কার্ড পাওয়া ও কার্ড কমে যাওয়ার ঘটনাগুলো ঘটেছে এভাবে—

১২ এপ্রিল ২০২৬, কলোরাডো র‍্যাপিডস (ম্যাচডে ৮): মৌসুমে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন মেসি।

৩ মে ২০২৬, অরল্যান্ডো সিটি (ম্যাচডে ১১): দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। ফলে তার মোট কার্ডের সংখ্যা দাঁড়ায় দুইয়ে।

অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে ম্যাচের পর টানা পাঁচ ম্যাচে কোনো হলুদ কার্ড, লাল কার্ড কিংবা অতিরিক্ত শাস্তি ছাড়াই খেলেন মেসি। ফলে গুড বিহেভিয়ার ইনসেনটিভের প্রথম সুবিধা পান তিনি। এতে তার কার্ডের সংখ্যা দুই থেকে কমে একে নেমে আসে।

২১ জুন ২০২৬, ন্যাশভিল এসসি (ম্যাচডে ২০): আবারও হলুদ কার্ড দেখেন মেসি। এতে তার কার্ডের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় দুইয়ে।

ন্যাশভিলের বিপক্ষে ম্যাচের পর টানা ১০ ম্যাচ কোনো হলুদ কার্ড, লাল কার্ড কিংবা অতিরিক্ত শাস্তি ছাড়াই খেলেন তিনি। এই ধারাবাহিকতার কারণে দুবার গুড বিহেভিয়ার ইনসেনটিভের সুবিধা পান মেসি। ফলে তার কার্ডের সংখ্যা দুই থেকে কমে আবার শূন্যে নেমে আসে।

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, আটলান্টা ইউনাইটেড (ম্যাচডে ৩১): আবারও হলুদ কার্ড দেখেন আর্জেন্টাইন তারকা। এতে তার কার্ডের সংখ্যা দাঁড়ায় একে।

২৯ অক্টোবর ২০২৬, এফসি সিনসিনাটি (ম্যাচডে ৩৩): ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে পঞ্চম হলুদ কার্ড দেখেন মেসি। সিনসিনাটি ডিফেন্ডার স্যামুয়েল গিদির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনার পর রেফারির সঙ্গে অসন্তোষ প্রকাশ করায় এই কার্ড দেখানো হয়। এতে তার সক্রিয় কার্ডের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় তিনে।

দুই দফা কার্ড কমে যাওয়ার কারণেই সিনসিনাটির বিপক্ষে পঞ্চম হলুদ কার্ড দেখেও নিষেধাজ্ঞার সীমায় পৌঁছাননি মেসি। চলতি মৌসুমে পাঁচবার হলুদ কার্ড দেখলেও নিয়ম অনুযায়ী তার বর্তমান কার্ডের সংখ্যা তিন।

ইন্টার মায়ামির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ মেসির খেলা?

রবিবার নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে নামবে ইন্টার মায়ামি। দুই দলের মধ্যে পয়েন্টের ব্যবধান মাত্র দুই। ফলে ম্যাচটির ফল ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

কিলি গঞ্জালেসের দলের বিপক্ষে জয় পেলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই প্রতিপক্ষকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে ইন্টার মায়ামি। চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল দুই দলের প্রথম দেখায় ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। ইন্টার মায়ামির ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে গোল করেছিলেন কার্লেস গিল ও জার্মান বেরতেরামে। ফলে নিয়মিত মৌসুমের শেষ দিকে এসে রোববারের ম্যাচটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

পয়েন্ট তালিকায় ভালো অবস্থানে থেকে নিয়মিত মৌসুম শেষ করতে পারলে এমএলএস কাপের নকআউট পর্বে ভালো সিডিং পাওয়ার সুযোগও তৈরি হবে। দ্বিতীয়বারের মতো ইন্টার মায়ামিকে এমএলএস কাপ জেতানোর লক্ষ্যে থাকা মেসির জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

চলতি মৌসুমে দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। ২৯ ম্যাচে ২৫ গোল করে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন তিনি। পাশাপাশি গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়েও এগিয়ে আছেন মেসি।

গুড বিহেভিয়ার ইনসেনটিভের নিয়মটি কার্যকর না হলে সিনসিনাটির বিপক্ষে পঞ্চম হলুদ কার্ড দেখার পর নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হতো তাকে। কিন্তু নিয়মের সুবিধায় সেই শাস্তি এড়িয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা। ফলে ইস্টার্ন কনফারেন্সের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে যাওয়া ম্যাচে ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নামতে আর কোনো বাধা নেই তার।