ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনাকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল রিয়াল মাদ্রিদ
বল দখল, পাস ও আক্রমণের পরিসংখ্যানে এগিয়ে থেকেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে বার্সেলোনা। কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে এই জয় পেয়েছে মাদ্রিদের দলটি। এর মধ্য দিয়ে বার্সেলোনার মাঠে টানা ১৮ ম্যাচ জয়ের ধারায় ছেদ টানার পাশাপাশি এল ক্লাসিকোর সামগ্রিক জয়ের হিসাবেও এগিয়ে গেছে রিয়াল।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে ক্যাম্প ন্যুতে ম্যাচের ৪১তম মিনিটে এমবাপ্পের গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। দ্বিতীয়ার্ধে ৬১তম মিনিটে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া গোল করে বার্সেলোনাকে সমতায় ফেরান। ম্যাচের শেষ দিকে ৮৭তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে রিয়ালের জয় নিশ্চিত করেন ফরাসি তারকা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল নিজেদের দখলে রেখে রিয়ালকে চাপে ফেলার চেষ্টা করে বার্সেলোনা। তবে স্বাগতিকদের আক্রমণাত্মক ফুটবল সত্ত্বেও প্রথমার্ধের শেষ দিকে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। ইয়াও দিওমান্দের নিচু ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে বলটি এমবাপ্পের গায়ে লাগিয়ে ফেলেন বার্সেলোনার ডিফেন্ডার জেরার্ড মার্তিন। এরপর বলটি গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়াকে ফাঁকি দিয়ে জালে ঢুকে যায়।
বিরতির পর সমতা ফেরাতে আক্রমণের গতি বাড়ায় বার্সেলোনা। ৬১তম মিনিটে পেদ্রির বাড়ানো বল পেয়ে রিয়ালের জুড বেলিংহ্যামের পায়ের ফাঁক দিয়ে শট নেন রাফিনিয়া। তার নিখুঁত শটে বল জালে জড়ালে ১-১ সমতায় ফেরে স্বাগতিকেরা।
এরপর জয়সূচক গোলের জন্য দুই দলই চেষ্টা চালায়। বার্সেলোনা আক্রমণে চাপ বাড়ালেও রিয়ালের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ খুঁজতে থাকে মাদ্রিদের দলটি। শেষ পর্যন্ত ৮৭তম মিনিটে সেই প্রচেষ্টার ফল পায় তারা।
মাঝমাঠ থেকে বেলিংহ্যামের আক্রমণের পর বল নিয়ে এগিয়ে যান বদলি খেলোয়াড় এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। তার কাছ থেকে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় লক্ষ্যভেদ করেন এমবাপ্পে। ফরাসি ফরোয়ার্ডের দ্বিতীয় গোলেই ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় রিয়ালের। শেষ দিকে আর সমতায় ফিরতে পারেনি বার্সেলোনা।
ম্যাচের পরিসংখ্যানে অবশ্য এগিয়ে ছিল বার্সেলোনাই। পুরো ম্যাচে ৬৩ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রাখে তারা। রিয়ালের ৩৬২টির বিপরীতে ৬৪৩টি পাস খেলে কাতালানরা। তাদের পাসের নির্ভুলতার হার ছিল ৯০ শতাংশ।
গোলের উদ্দেশ্যে বার্সেলোনা ১৬টি শট নেয়, যার ছয়টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে রিয়াল নয়টি শট নিয়ে পাঁচটিই লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। অর্থাৎ বল দখল ও আক্রমণের সংখ্যায় পিছিয়ে থাকলেও সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল রিয়াল। বিপরীতে বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকেও প্রত্যাশিত ছন্দে দেখা যায়নি।
এই হারে নিজেদের মাঠে লিগে টানা ১৮ ম্যাচ জয়ের ধারাও হারিয়েছে বার্সেলোনা। সংস্কারকাজ শেষে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ক্যাম্প ন্যুতে ফেরার পর থেকে নিজেদের মাঠে অপরাজিত আধিপত্য ধরে রেখেছিল দলটি। রিয়ালের কাছে হেরে সেই ধারার অবসান হলো।
এ ম্যাচে জিতলে স্প্যানিশ লিগে মৌসুমের প্রথম ১০ ম্যাচেই জয়ের নতুন কীর্তি গড়ার সুযোগ ছিল বার্সেলোনার সামনে। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে প্রথম নয়টি ম্যাচ জিতে রেকর্ড গড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। এবার সেই কীর্তিতে ভাগ বসানোর সুযোগ পেলেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারাতে না পারায় নতুন রেকর্ড গড়া হয়নি হান্সি ফ্লিকের দলের।
এল ক্লাসিকোর সামগ্রিক জয়ের হিসাবেও এই জয় রিয়ালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচটির আগে দুই দলের ২৬৪টি লড়াইয়ে উভয় দলই ১০৬টি করে জয় পেয়েছিল। বাকি ৫২টি ম্যাচ হয়েছিল ড্র। রবিবারের ২৬৫তম লড়াইয়ে জিতে রিয়ালের জয়সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০৭। বার্সেলোনার জয় ১০৬টিতেই আটকে আছে।
গোলের হিসাবেও এগিয়ে গেছে মাদ্রিদের ক্লাবটি। এল ক্লাসিকোয় রিয়ালের গোলসংখ্যা এখন ৪৪৬, আর বার্সেলোনার ৪৪২। অর্থাৎ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে চার গোল এগিয়ে রয়েছে রিয়াল।
এল ক্লাসিকোয় হারলেও স্প্যানিশ লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। ১০ ম্যাচে নয় জয় ও ২৭ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে দলটি। সমান ম্যাচে আট জয় ও ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। দুই দলের মাঝে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।
ক্যাম্প ন্যুতে এই জয়ের ফলে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছে রিয়াল। একই সঙ্গে বড় ম্যাচে নিজেদের কার্যকারিতাও প্রমাণ করেছে দলটি। বল দখল কিংবা পাসের সংখ্যায় আধিপত্য নয়, বরং গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতাই শেষ পর্যন্ত দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে।