২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৪০

‘দ্বৈতনীতি বন্ধ করুন’, ফিফাকে বার্তা ওজিলের

মেসুত ওজিল  © সংগৃহীত

রাশিয়ার ফুটবল দলগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক জার্মান তারকা মেসুত ওজিল। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রতি এই দাবি জানান ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী তারকা। তার মতে, ফুটবল সব সময়ই মানুষের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছে। তাই ফুটবলে দ্বৈতনীতি পরিহার করে সবার সঙ্গে সমান আচরণ করা উচিত।

ইস্তাম্বুল বাসাকশেহির ও জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গের মধ্যে সাবেক খেলোয়াড়দের একটি প্রীতি ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন ওজিল। তুরস্কের ক্লাবটি ৩-২ গোলে জেতার পর সেই আয়োজনকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক এই বক্তব্য দেন সাবেক এই মিডফিল্ডার। একই সঙ্গে রাশিয়ার দলগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ফিফার পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ওজিল বলেন, “ফুটবল সব সময়ই শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছে। মানুষের বংশপরিচয় কিংবা ধর্মের দিকে নজর না দিয়ে ফুটবল সব সময় মানুষকে একত্র করেছে। আপনারা জানেন, ইসরায়েলের দলগুলোর ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না, কিন্তু রাশিয়ার দলগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।”

ফিফার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “দ্বৈতনীতি পরিহার করুন এবং সবার সঙ্গে সমান আচরণ করুন!”

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর দেশটির জাতীয় ও ক্লাব দলগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ফিফা ও উয়েফা। পাশাপাশি তাদের নিজেদের আয়োজিত প্রতিযোগিতা থেকেও বাদ দেওয়া হয়। এবার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানালেন ওজিল।

তবে দুই ক্লাবের সঙ্গেই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমর্থন পেয়ে থাকে বলে কথিত রয়েছে। অন্যদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে বাসাকশেহিরের সমর্থক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরদোয়ানের সঙ্গে ওজিলের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানা যায়। এমনকি ৩৮ বছর বয়সী ওজিলের সন্তানদের প্রেসিডেন্টকে ‘দাদু’ বলে ডাকার অনুমতিও রয়েছে।

ফুটবলের বাইরেও অতীতে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখিয়েছেন ওজিল। গত বছর তাকে নির্বাহী বোর্ডে নির্বাচিত করেন তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল একে পার্টির সদস্যরা। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের কট্টর রক্ষণশীল ও ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত একে পার্টির পূর্ণ নাম ‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ বা ‘ন্যায়বিচার ও উন্নয়ন পার্টি’।