বার্সাকে মৌসুমের প্রথম হারের স্বাদ দিল পিএসজি
দুইবার সমতায় ফিরেও শেষ রক্ষা হলো না বার্সেলোনার। প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে দুইবার পিছিয়ে পড়ে সমতা ফেরালেও শেষ পর্যন্ত প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) কাছে ৪-২ গোলে হেরেছে হান্সি ফ্লিকের দল। এতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের পর চলতি মৌসুমে প্রথম হারের স্বাদ পেল বার্সেলোনা।
বাংলাদেশ সময় বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১টায় শুরু হওয়া এই ম্যাচের প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পিএসজি। বার্সেলোনার রক্ষণে অগোছালো ভাবের সুযোগ নিয়ে গোলের কাছাকাছি চলে যায় স্বাগতিকেরা। খিচা কাভারাস্কেইয়ার জোরালো শট ঠেকাতে ডাইভ দেন বার্সেলোনা গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া। তাঁকে ফাঁকি দিলেও বলটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে বার্সেলোনা। অ্যান্থনি গর্ডন ও পেদ্রি গোলের সুযোগ তৈরি করেন। দানি ওলমোর জোরালো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে প্রথমার্ধেই চোটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড়কে হারায় দুই দল। পিএসজির উসমান দেম্বেলে ও বার্সেলোনার ওলমো মাঠ ছাড়েন।
৩৮ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোলটি করে পিএসজি। লামিন ইয়ামালের পাস মাঝপথে আটকে বলের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্বাগতিকেরা। এরপর বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে বার্সেলোনার জালে বল পাঠান দেজিরে দুয়ে। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পিএসজি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল পিএসজি। ৫০ মিনিটে আশরাফ হাকিমি গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল জালে পাঠাতে পারেননি। দারুণ সেভে বার্সেলোনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন গার্সিয়া।
এরপর সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। ফেরমিন লোপেজের সঙ্গে বল আদান-প্রদান করে বক্সে ঢুকে পড়েন তরুণ জাভি এসপার্ত। পিএসজি গোলরক্ষক মাতভে সাফোনভকে পরাস্ত করে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের প্রথম গোলটি করেন তিনি।
তবে গোল হজমের পর পিএসজির দুশ্চিন্তা বাড়ে। চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় মার্কিনিওস ও কাভারাস্কেইয়াকে। অন্যদিকে বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন। মাঠে নামান গাভি, রদ্রি ও কারিম আদেয়েমিকে।
৭০ মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় পিএসজি। কাছ থেকে ফেরান তোরেসের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে ৭০ মিনিটের পরের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার রক্ষণ ভাঙতে সক্ষম হয় স্বাগতিকেরা। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড করে পিএসজিকে এগিয়ে দেন লুকাস এরনান্দেস। গার্সিয়া এবার আর বল আটকাতে পারেননি। স্কোরলাইন হয় ২-১।
ম্যাচের ৭৯ মিনিটে আবারও সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। ডান প্রান্তে বদলি খেলোয়াড় ওয়ারেন জাইরে-এমেরিকে কাটিয়ে বুটের বাইরের অংশ দিয়ে বল বাড়িয়ে দেন ইয়ামাল। সেই বল সাফোনভের মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়ান বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা। ম্যাচের স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২।
কিন্তু বার্সেলোনার সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আবার এগিয়ে যায় পিএসজি। বক্সের বাইরে থেকে আসা বল বুকে নামিয়ে দুর্দান্ত শটে গোল করেন ভিতিনিয়া। তাতে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা।
শেষ দিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় পিএসজি। ডান প্রান্ত দিয়ে বারবার বার্সেলোনার রক্ষণে চাপ তৈরি করেন হাকিমি। তাঁর ক্রস থেকে পাওয়া বল ফাঁকা জায়গায় পেয়ে টোকা দিয়ে জালে পাঠান ফাবিয়ান রুইস। তাতেই ৪-২ গোলের জয় নিশ্চিত হয় পিএসজির।
দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফেরার পর শেষ পর্যন্ত আর পেরে ওঠেনি বার্সেলোনা। পিএসজির দাপুটে জয়ে থেমে গেছে ফ্লিকের দলের টানা ১১ ম্যাচের জয়ের ধারা।