১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৩৩

ব্যালন ডি’অরের ‘অদ্ভুত’ ভোটাভুটিতে ফের চাঙ্গা মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ

মেসি-রোনালদো  © সংগৃহীত

ব্যালন ডি’অরের বিজয়ী নির্বাচনে সাধারণত ভোট দেওয়ার সুযোগ পান নির্দিষ্ট সাংবাদিকেরা। তবে এবার ফুটবলপ্রেমীদের জন্যও এসেছে ভোট দেওয়ার সুযোগ। ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষের বিশেষ এই আয়োজনে মাত্র এক ইউরো খরচ করে পছন্দের কিংবদন্তির সেরা মৌসুমকে সমর্থন জানাতে পারবেন সমর্থকেরা। চাইলে একই খেলোয়াড়কে একাধিকবার ভোট দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

তবে এই ভোটাভুটি ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের বিজয়ী নির্বাচনের জন্য নয়। বরং পুরস্কারটির দীর্ঘ ইতিহাসে কোন বিজয়ীর কোন মৌসুমটি সবচেয়ে স্মরণীয়, তা বেছে নেওয়াই এই উদ্যোগের উদ্দেশ। অর্থাৎ, কোন মৌসুমে একজন ফুটবলার তার পারফরম্যান্স দিয়ে বর্ষসেরার স্বীকৃতিকে সবচেয়ে বেশি সার্থক করেছিলেন, সেটিই নির্ধারণ করবেন সমর্থকেরা।

ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দুই ফুটবলার লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও রয়েছেন এই ভোটাভুটিতে। মেসি ক্যারিয়ারে ৮ বার এবং রোনালদো পাঁচবার জিতেছেন মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার। তাদের পাশাপাশি একাধিকবার ব্যালন ডি’অরজয়ী আরও ৮ কিংবদন্তির সেরা মৌসুম বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ভক্তরা।

ভোটের তালিকায় মেসি ও রোনালদো ছাড়াও রয়েছেন রোনালদো নাজারিও, মার্কো ফন বাস্তেন, মিশেল প্লাতিনি, কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে, কেভিন কিগান, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, ইয়োহান ক্রুইফ ও আলফ্রেডো দি স্তেফানো।

ব্যালন ডি’অরের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে অক্টোবরের শুরুতে শুরু হয়েছে এই ভোটাভুটি। প্যারিসের স্থানীয় সময় ২৭ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিটি ভোটের জন্য খরচ করতে হবে এক ইউরো। একজন সমর্থক চাইলে একই খেলোয়াড়ের পক্ষে একাধিকবার ভোট দিতে পারবেন।

ভোটে অংশ নেওয়া সমর্থকদের জন্য রয়েছে বাড়তি আকর্ষণও। তারা ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের দুটি টিকিট জেতার লটারিতে অংশ নিতে পারবেন। পাশাপাশি ব্যালন ডি’অর ট্রফির একটি বিশেষ ছবিও কেনা ও ডাউনলোড করার সুযোগ রয়েছে। তবে আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ভোটের ফলাফল সমর্থকদের পছন্দ তুলে ধরবে; এটি ফুটবল ইতিহাসের সেরা মৌসুমের চূড়ান্ত মূল্যায়ন নয়।

এখন পর্যন্ত ভোটাভুটিতে সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ২০০৮ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম। সে বছর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিতেছিলেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অরও অর্জন করেন তিনি।

রোনালদোর সেই মৌসুমকে এখনও তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ক্লাবের হয়ে সাফল্য এবং ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স—দুই দিক থেকেই ২০০৮ সাল ছিল তার জন্য বিশেষ এক অধ্যায়। ভোটের ফলেও সেই সাফল্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

রোনালদোর পরেই রয়েছেন লিওনেল মেসি। তার ২০১২ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম ভোটাভুটিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ওই বছর এক পঞ্জিকাবর্ষে ৬৯ ম্যাচে ৯১ গোল করে ফুটবল ইতিহাসে অবিস্মরণীয় রেকর্ড গড়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে টানা চতুর্থবারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতেন মেসি। তার এই অর্জন ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে।

সব মিলিয়ে, ব্যালন ডি’অরের এই বিশেষ ভোটাভুটি আবারও সামনে এনেছে মেসি ও রোনালদোর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একজনের ২০০৮ সালের ক্লাব-সাফল্য, অন্যজনের ২০১২ সালের গোলের রেকর্ড—দুটি মৌসুমই ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোন মৌসুমকে সবচেয়ে বেশি সমর্থন দেবেন ভক্তরা, সেটিই এখন দেখার বিষয়।