১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৪৫

বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে ‘এক্সাইটেড’ ইনফান্তিনো, জানালেন তাবিথ

জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে তাবিথ আউয়াল  © সংগৃহীত

মরক্কো থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় প্রায় দুই ঘণ্টার যাত্রাবিরতি করেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এ সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। সংক্ষিপ্ত এই সফরে তার সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়ন, ফিফার সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয় বাফুফের।

সাক্ষাৎ শেষে তাবিথ আউয়াল জানান, দুই ঘণ্টার ট্রানজিটের মধ্যেই বাফুফের একটি প্রতিনিধিদল ইনফান্তিনোর সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ পেয়েছে। এ সময় বাংলাদেশের মানুষের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তাও দেন ফিফা সভাপতি।

তাবিথ বলেন, ‘দুই ঘণ্টার ট্রানজিটে আমরা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে একটি ডেলিগেশন নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি। বাংলাদেশের উদ্দেশে তিনি একটি ভিডিও বার্তাও দিয়ে গেছেন। সব মিলিয়ে খুব ভালো পরিবেশে মিটিংটা করতে পেরেছি। আমরা মূলত আলোচনা করেছি, ভবিষ্যতে ফিফার সঙ্গে বাংলাদেশ আরও কীভাবে কাজ করতে পারে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জানতে চেয়েছেন, আসিয়ান কাপে আমাদের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল এবং এ ধরনের আরও টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলে বাংলাদেশ অংশ নেবে কি না।’

বাংলাদেশের জাতীয় দলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বেশি খেলার সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ নিয়ে বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘আমরা আরও ইউরোপিয়ান দেশে খেলতে চাই, ইউরোপেও খেলতে চাই। কীভাবে ফিফা উইন্ডোকে আরও উন্মুক্ত করা যায়, যেন বিভিন্ন কনফেডারেশনের দলগুলো একে অপরের সঙ্গে খেলতে পারে, সেটা নিয়েও কথা হয়েছে।’

ফিফা সভাপতির সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে তাবিথ জানান, দেশের ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়নের কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হলে তার সফরের উপযুক্ত উপলক্ষ তৈরি হবে। এর মধ্যে রয়েছে টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণ, সিলেটে হাইব্রিড পিচ স্থাপন এবং দুটি স্টেডিয়ামের সংস্কার ও ফ্লাডলাইটের উন্নয়নকাজ।

তাবিথের ভাষ্যমতে, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের আওতায় যে অর্থগুলো এখনো খরচ হয়নি, সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। প্রকল্পগুলো প্রস্তুত হওয়ার প্রক্রিয়ায় আছে। একটু গতি পেলে ফিফা প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে এসে প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করতে চান।’

বৈঠকে স্টেডিয়ামগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে আলোকসজ্জার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছে বাফুফে। পাশাপাশি চতুর্থ শ্রেণি থেকে স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ সম্পর্কেও ইনফান্তিনোকে অবহিত করা হয়েছে। তবে ফিফা সভাপতি নির্বাচন কিংবা রাজনৈতিক কোনো বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট করেন বাফুফে সভাপতি।

তাবিথ বলেন, ‘ইলেকশন বা রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে আমাদের কোনো কথা হয়নি। আমরা মূলত ফুটবল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কথা বলেছি। ১৮ নভেম্বর কারা ফিফা সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দেন, আমরা সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। এরপর হয়তো আমরা আমাদের অবস্থান নিতে বা প্রকাশ করতে পারব।’

ফিফার কাছ থেকে ভবিষ্যতে আরও আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাবিথ। তার মতে, এর মাধ্যমে ফিফার কাছে বাংলাদেশের ফুটবল ফেডারেশনের আন্তরিকতা এবং ফুটবলের প্রতি সরকারের আগ্রহ ও সমর্থনও স্পষ্ট হচ্ছে।

তাবিথ বলেন, ‘আমরাও আশা করি, ফিফা থেকে আমরা আরও অ্যাসিস্ট্যান্স পাব। কারণ এক্সাইটমেন্টটা এখন তৈরি হয়ে গেছে। বাংলাদেশ প্রতিটি ফিফা ইভেন্টে অংশগ্রহণ করছে। এতে অন্তত ফিফার কাছে প্রমাণ হয়, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন অত্যন্ত সিরিয়াস এবং বাংলাদেশ সরকার ফুটবলের পেছনে খুবই প্যাশনেট।’