১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩১

হাসানের হ্যাটট্রিকে দিশেহারা আফগানিস্তান

হাসান মাহমুদ   © টিডিসি ফটো

হাসান মাহমুদের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিকে তৃতীয় দিনের শুরুতেই চাপে পড়েছে আফগানিস্তান। টানা তিন বলে ইসমত আলম, কায়েস আহমেদ ও জিয়া-উর-রহমানকে ফিরিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেয়েছেন বাংলাদেশের এই পেসার। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার এবং প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়েছেন তিনি। হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৮৩ ওভার শেষে প্রথম ইনিংসে আফগানিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৮ উইকেটে ২২০ রান। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখনো ১২৬ রানে পিছিয়ে রয়েছে তারা।

শনিবার (১১ অক্টোবর) ম্যাচের তৃতীয় দিনের শুরুতে নতুন বল হাতে নিয়ে আক্রমণে নামে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতেই ইবাদত হোসেন ইকরাম আলীখিলকে বোল্ড করে আফগানিস্তানের পঞ্চম উইকেট তুলে নেন। অফ স্টাম্পের চ্যানেলে পড়া ইবাদতের বলটি ভেতরে ঢুকে ইকরামের ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক গলে সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করে। এর মধ্য দিয়ে নিজের তৃতীয় উইকেট পান ইবাদত।

এরপর বল হাতে ঝড় তোলেন হাসান মাহমুদ। ৮২তম ওভারের তৃতীয় বলে ইসমত আলমকে বোল্ড করেন তিনি। অফ স্টাম্পের ওপর গুড লেন্থের বলটি ভেতরে ঢুকে নিচু হয়ে যায়। ব্যাকফুটে গিয়ে বলটি ঠেকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন ইসমত। তার ব্যাটের নিচ দিয়ে বল গিয়ে আঘাত করে অফ স্টাম্পে।

পরের বলেই কায়েস আহমেদকে ফিরিয়ে দেন হাসান। অফ স্টাম্পের ওপর দিয়ে ভেতরে ঢুকে আসা বলটি ডিফেন্স করতে গিয়ে ব্যাটের বাইরের কানায় লাগান কায়েস। উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন লিটন দাস। কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন কায়েস।

এরপর হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়ে হাসান। ওভারের পঞ্চম বলে জিয়া-উর-রহমানকে এলবিডব্লিউ করেন তিনি। শুরুতে আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। আল্ট্রা এজে ব্যাটে বলের সংস্পর্শের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়, বলটি অফ স্টাম্পের ওপর আঘাত করত। ফলে সিদ্ধান্ত বদলে আউট হন জিয়া-উর-রহমান। টানা তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হাসান।

ওভারের শেষ বলে ইয়ামিন আহমদজাই কভার অঞ্চলে বল ঠেলে দেন। ফলে কোনো রান না দিয়ে তিন উইকেট তুলে নেওয়া একটি হ্যাটট্রিক মেডেন ওভার সম্পন্ন করেন হাসান।

এর আগে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হয়েছিল আফগানিস্তানের ৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ৩৪৬ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে তারা তখন ১৩৫ রানে পিছিয়ে ছিল। তৃতীয় দিনের শুরুতে ইবাদত ও হাসানের বোলিংয়ে দ্রুত চারটি উইকেট হারিয়ে আরও চাপে পড়ে দলটি।

দ্বিতীয় দিন শেষে রহমত শাহ ৮৪ এবং ইকরাম আলীখিল ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৯৪ বলে ৭২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে উঠেছিল। এর আগে মালিক ৬২ রান করে আউট হন। দ্বিতীয় দিন দুই উইকেট হাতে নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। ৮.৩ ওভার ব্যাট করে আরও ২৯ রান যোগ করে দলটি। শেষ পর্যন্ত ৯২.৩ ওভারে ৩৪৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে তানজিদ হাসান ৮৩, সাদমান ইসলাম ৬৭ ও নাঈম হাসান অপরাজিত ৩৫ রান করেন। আফগানিস্তানের হয়ে সেলিম ৮২ রানে চারটি এবং ইয়ামিন ৭৯ রানে তিনটি উইকেট নেন।

আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসে ইবাদত হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি হাসান মাহমুদ গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। হ্যাটট্রিকের পর হাসানের বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড়ায় ১৮ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে চার উইকেট।

তৃতীয় দিনের শুরুতেই বাংলাদেশের বোলারদের এমন দাপটে ম্যাচে ফিরতে হলে আফগানিস্তানকে এখন দ্রুত উইকেট হারানো ঠেকাতে হবে। অন্যদিকে, প্রথম ইনিংসে বড় লিড নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বাকি উইকেটগুলো দ্রুত তুলে নিতে চাইবে বাংলাদেশ।