বড় শাস্তির শঙ্কায় রোনালদো
পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় নিজের আচরণের দায় স্বীকার করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। একই সঙ্গে এ ঘটনায় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন যে শাস্তি দেবে, সেটিও মেনে নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
তবে জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর ২৩ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অর্জনের সামনে সাম্প্রতিক এই তিক্ততা খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করছেন তার ভক্ত-সমর্থকেরা। পর্তুগালের জার্সিতে রেকর্ডসংখ্যক গোল, ২০১৬ ইউরো জয় এবং ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক—সব মিলিয়ে জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর অবদানই বড় হয়ে থাকবে।
কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে বিরোধের জেরে গত ৩০ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা প্রায় দুই হাজার শব্দের এক বিবৃতিতে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন তিনি। সেখানে রোনালদো জানান, কোচ দুইবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তবে একইসঙ্গে স্পষ্ট করেছেন, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে এখনই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাচ্ছেন না।
নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তি পাওয়াটাও স্বাভাবিক বলে মনে করছেন রোনালদো। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের কাছ থেকে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা মেনে নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তিনি।
পর্তুগালের ডিসিপ্লিনারি নিয়ম অনুযায়ী, বৈধভাবে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পর কোনো যথাযথ কারণ ছাড়া ক্যাম্প, অনুশীলন, ম্যাচ কিংবা জাতীয় দলের অন্য কোনো কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকলে একজন খেলোয়াড়কে এক থেকে ৬ মাস পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। পাশাপাশি পেশাদার খেলোয়াড়দের ৫ থেকে ১০ অ্যাকাউন্টিং ইউনিট জরিমানার বিধানও রয়েছে।
সবচেয়ে কঠোর শাস্তি হলে রোনালদো পরবর্তী দুটি আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে পর্তুগালের চারটি ম্যাচে খেলতে নাও পারেন। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।
রোনালদোও জানিয়েছেন, সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর শারীরিকভাবে ফিট থাকলে এবং ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত খেলতে পারলে তিনি আবার পর্তুগালের হয়ে মাঠে নামতে প্রস্তুত। গত নভেম্বরেও তার নিষেধাজ্ঞার শেষ দুই ম্যাচ এক বছরের জন্য স্থগিত করেছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা-ফিফা। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপের পুরো আসরেই খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।
রোনালদো ক্যাম্প ছাড়ার পরও তাকে ছাড়াই উয়েফা নেশনস লিগের গ্রুপ পর্বে ডেনমার্ক ও নরওয়ের বিপক্ষে জয় পেয়েছে পর্তুগাল। এর আগে নরওয়ের বিপক্ষের ম্যাচেও রোনালদোকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়েছিল; মাঠে নামেননি তিনি।
তবু পর্তুগাল দলের অনেক খেলোয়াড়ই রোনালদোকে আদর্শ মেনে বড় হয়েছেন। কোচ হোর্হে জেসুসও এর আগে জানিয়েছিলেন, রোনালদোর সঙ্গে পুনর্মিলনের দরজা খোলা রয়েছে।
পর্তুগাল গ্রুপের শীর্ষে থেকে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠতে পারলে আগামী মার্চেই রোনালদোর ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। দুই লেগের কোয়ার্টার-ফাইনাল পেরোতে পারলে জুনে নেশনস লিগের ফাইনালসেও দেখা যেতে পারে তাকে।
রোনালদো শেষ পর্যন্ত ফিরলে সেটিই তার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বড় অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।