শেষ মুহূর্তের গোলে ফাইনালে আর্জেন্টিনা
ম্যাচের নির্ধারিত সময় প্রায় শেষ। গোলশূন্য ম্যাচ গড়াচ্ছিল অতিরিক্ত সময়ের দিকে। ঠিক তখনই সান্তিয়াগো এসপিন্দোলার দুর্দান্ত গোলে পেরুকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৯ দল। এই জয়ে দক্ষিণ আমেরিকান গেমসের পুরুষ ফুটবলে সোনার পদকের লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছে জুনিয়র আলবিসেলেস্তারা।
বুধবার রোজারিওর মার্সেলো বিয়েলসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনার হাতে। বলের দখল রেখে একের পর এক আক্রমণ করলেও পেরুর গোলরক্ষক ফাব্রিসিও মেসিয়াস ও রক্ষণভাগের বাধায় গোল পাচ্ছিল না তারা।
দ্বিতীয়ার্ধেও একইভাবে চাপ ধরে রাখে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখন ৮৯ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলটি আসে। পেরুর বক্সের বাইরে ফিরে আসা বল পেয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে জালে পাঠান এসপিন্দোলা। তার ওই এক গোলেই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
১৭ বছর বয়সী এসপিন্দোলা রিভার প্লেটের তরুণ প্রতিভাদের একজন। ক্লাবটির রিজার্ভ দলের হয়ে খেললেও চলতি বছর মূল দলের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছেন এই মিডফিল্ডার। এপ্রিলে রিভার প্লেটের সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তিও নবায়ন করেছেন তিনি। তার চুক্তিতে ১০০ মিলিয়ন ডলারের রিলিজ ক্লজ রাখা হয়েছে।
ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। অন্য সেমিফাইনালে চিলিকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে তারা। শুক্রবার আবারও মার্সেলো বিয়েলসা স্টেডিয়ামে সোনার পদকের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুই দল।
গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে এই প্যারাগুয়ের কাছেই ২-১ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। এরপর উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারানোর পর ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে সেমিফাইনালে ওঠে দিয়েগো প্লাসেন্তের দল। ফলে ফাইনালে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জিতলে গ্রুপপর্বের হারের জবাব দেওয়ার সুযোগও থাকবে আর্জেন্টিনার সামনে।
দক্ষিণ আমেরিকান গেমসের পুরুষ ফুটবলে এর আগে দুবার সোনা জিতেছে আর্জেন্টিনা। ১৯৮২ ও ১৯৮৬ সালে সোনা জয়ের পর ২০১৪ সালে রুপা জিতেছিল তারা। এবার ৪০ বছর পর আবারও এই আসরের ফুটবলে সোনার পদকের সামনে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনার যুবারা।