১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:১৬

২০ বছরের অধ্যায়ের ইতি টেনে নতুন ঠিকানায় এমবাপ্পে

কিলিয়ান এমবাপ্পে  © সংগৃহীত

ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নাইকির সঙ্গে প্রায় দুই দশকের সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ইতি টেনেছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্ক ছিন্ন করে এবার সুইজারল্যান্ডভিত্তিক স্পোর্টসওয়্যার কোম্পানি ‘অন হোল্ডিং’র সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তিতে যুক্ত হয়েছেন তিনি।

ফুটবলে নিজেদের ব্যবসা ও পরিধি বাড়ানোর বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ‘অন হোল্ডিং’। সেই অভিযাত্রায় ব্র্যান্ডটির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন এমবাপ্পে।

মাত্র ৮ বছর বয়সে নাইকির সঙ্গে পথচলা শুরু হয়েছিল এমবাপ্পের। পরবর্তী সময়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে তিনিও হয়ে ওঠেন মার্কিন এই ক্রীড়া ব্র্যান্ডের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক দূত। বিশেষ করে নাইকির জনপ্রিয় ‘মারকিউরিয়াল’ ফুটবল বুটের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড।

তবে এবার তার ক্যারিয়ারে এসেছে বড় এক বাণিজ্যিক পরিবর্তন। অ্যাথলেটিকস ও দৌড়ের সরঞ্জাম দিয়ে ব্যবসার মূল ভিত্তি গড়ে তোলা ‘অন হোল্ডিং’ এখন ফুটবলসহ নতুন নতুন খেলায় নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে চাইছে। ২০১৯ সালের নভেম্বরে রজার ফেদেরারকে বিনিয়োগকারী ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে যুক্ত করার পর সেই বিস্তারের পথ আরও স্পষ্ট হয়।

গত ৩১ জুলাই নাইকির সঙ্গে এমবাপ্পের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এরপরও নাইকির বিভিন্ন বিজ্ঞাপন ও বাণিজ্যিক প্রচারণায় তার উপস্থিতি দেখা যাওয়ায় নতুন ব্র্যান্ড নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ‘অন’-এর সঙ্গে নতুন যাত্রার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন এমবাপ্পে।

চুক্তির ঘোষণা দিয়ে এমবাপ্পে বলেন, “শুরু থেকেই ‘অন’-এর প্রতি আমার আকর্ষণের প্রধান কারণ ছিল, একসঙ্গে সম্পূর্ণ নতুন কিছু তৈরি করার সুযোগ, যা আগামী দিনের ফুটবলকে নতুন রূপ দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা যা তৈরি করব, সেখানে আমি আমার অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করতে চাই। উদ্ভাবনের নতুন নতুন দুয়ার উন্মোচন করতে চাই এবং ফুটবলের আসল আনন্দকে সবসময় ধারণ করতে চাই। আমাদের একটি যৌথ স্বপ্ন আছে, আর এটি কেবল শুরু।”

এমবাপ্পের ‘অন’-এ যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে রজার ফেদেরারের পথও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। নাইকির সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে ফেদেরারও এই সুইস ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডার হওয়ার পাশাপাশি নিজের নামে ‘সিগনেচার’ পণ্য লাইনও চালু করেন।