১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৮

ফোডেনের লাল কার্ড, ১০ জনের সিটির ডার্বি জয়

ফোডেনের লাল কার্ড বিতর্ক   © টিডিসি ছবি

ম্যানচেস্টার ডার্বিতে নাটক কম হলো না। ম্যাচের ২৩ মিনিটেই ফিল ফোডেন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় ম্যানচেস্টার সিটি। তবে একজন কম নিয়েও শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে ডার্বি জিতেছে তারা। দ্বিতীয়ার্ধে সিটির জয়সূচক গোলটি করেন আর্লিং হালান্ড।

ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল তীব্র লড়াই। ২৩ মিনিটে ফোডেন লাল কার্ড দেখার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই চলে যায় ইউনাইটেডের হাতে। একজন বেশি নিয়ে একের পর এক আক্রমণ করেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা।

ফোডেনের লাল কার্ডের ঘটনাটি অবশ্য ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হয়ে আছে। ইউনাইটেড তখন সিটির অর্ধে চাপ তৈরি করছিল। বল ক্লিয়ার করার সুযোগ পেয়েও সিটির খেলোয়াড়েরা ছোট পাসে খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় নুনেসের বাড়ানো পাস পেয়ে সাইডলাইনের কাছে বল নিয়ন্ত্রণে নেন ফোডেন। তার পেছনে ছিলেন ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ।

ব্রুনো প্রথমে ফোডেনকে কড়া ট্যাকেল করেন। তাতে মাটিতে পড়ে যান ফোডেন। রেফারি মাইকেল অলিভার ফাউলের বাঁশি বাজান। তবে এরপরই পরিস্থিতি বদলে যায়।

মাটিতে পড়ে থাকা ফোডেনের পিঠের দিকে রেফারির নজরের বাইরে বুট দিয়ে গুঁতা দেন ব্রুনো। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ফোডেন। এরপর পিঠের ওপর ভর দিয়ে ঘুরে দুই পা তুলে ব্রুনোর পেটে লাথি মারেন তিনি। ব্রুনোও সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে পড়ে যান।

ঘটনাটি দেখে সরাসরি ফোডেনকে লাল কার্ড দেখান রেফারি মাইকেল অলিভার। ফোডেন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে প্রতিবাদ করলেও রিপ্লেতে তার লাথি মারার বিষয়টি স্পষ্ট দেখা যায়। পরে ভিএআরও রেফারির সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

অলিভার মাইক্রোফোনে বলেন, ‘ফিল ফোডেনকে লাল কার্ড—ব্রুনোর গায়ে পা চালিয়ে দেওয়ার জন্য।’ ভিএআর রেফারি ম্যাট ডোনাহুও বলেন, ‘এটি স্পষ্ট লাল কার্ড। ৪৭ নম্বর জার্সির লাল কার্ড নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

তবে ফোডেনকে লাল কার্ড দেখানো হলেও ঘটনার শুরু করা ব্রুনো কোনো শাস্তি পাননি। ফোডেনকে ফাউল করে মাটিতে ফেলার পর তার পিঠে গুঁতা দেওয়ার ঘটনাতেও পর্তুগিজ মিডফিল্ডারকে হলুদ কার্ড দেখাননি রেফারি। এ নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।

ফোডেন এরপর রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়ান। তখন অলিভার তাকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘অধ্যায় এখানেই শেষ, মাঠ ছাড়ো।’ পরে সতীর্থকে আর ঝামেলায় না জড়াতে হালান্ড এগিয়ে এসে ফোডেনকে মাঠের বাইরে পাঠান। মাথা নিচু করে টানেলের দিকে চলে যান সিটির এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড।

একজন কমে যাওয়ার পর ইউনাইটেড ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একাধিক ভালো সুযোগ তৈরি করে তারা। এর মধ্যে দুটি আক্রমণে বল সিটির পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে কোনো সুযোগ থেকেই গোল করতে পারেনি স্বাগতিকরা।

উল্টো ৬০ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে এগিয়ে যায় সিটি। ইয়োশকো গাভারদিওলের নিচু ক্রস ডিফ্লেক্ট হয়ে গোলমুখে গেলে কাছ থেকে বল জালে পাঠান হালান্ড।

প্রথমে সহকারী রেফারি হালান্ডকে অফসাইডের পতাকা দেখান। পরে দীর্ঘ সময় ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। এতে ১০ জনের সিটি পেয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত লিড।

গোল হজমের পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইউনাইটেড। একের পর এক আক্রমণ চালালেও সিটির রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ১০ জন নিয়েই লিড ধরে রাখে সিটি এবং গুরুত্বপূর্ণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

এই জয়ে নতুন কোচ এনজো মারেস্কার অধীনে প্রিমিয়ার লিগে সিটির শতভাগ জয়ের রেকর্ড অক্ষুণ্ন থাকল। চার ম্যাচে চার জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আছে তারা। সমান ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল। অন্যদিকে চার ম্যাচে এক জয় ও এক ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ১৩ নম্বরে আছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।