০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:০৪

কেমন হলো বাংলাদেশের নতুন জার্সি

বাংলাদেশ ফুটবল দলের নতুন জার্সি  © সংগৃহীত

বাংলা বর্ণমালার নকশায় নতুন সাজে মাঠে নামবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। লাল-সবুজের ঐতিহ্যের সঙ্গে মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক মিলিয়ে জাতীয় দলের নতুন হোম ও অ্যাওয়ে জার্সি উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কিট পার্টনার ‘দৌড়’।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে নতুন জার্সির মোড়ক উন্মোচন করেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

এ সময় নিজের খেলার সময়ের কথা স্মরণ করে আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা যখন খেলতাম, তখন বাজার থেকে জার্সি কিনে এনে দিতেন কর্মকর্তারা। এত ব্র্যান্ডিং ও আনুষ্ঠানিকতা করে কখনও জার্সি পরা হয়নি। এ রকম একটি ব্যবস্থা চালুর জন্য বাফুফে সভাপতিকে ধন্যবাদ।’

নতুন হোম জার্সিতে এবার প্রাধান্য পেয়েছে সাদা রং। সবুজ কলার ও দুই পাশে লাল বর্ডারের পাশাপাশি পুরো জার্সিজুড়ে রয়েছে বাংলা বর্ণমালার নকশা। বুকের অংশে লাল রঙে রাখা হয়েছে বাফুফের লোগো ও খেলোয়াড়দের নম্বর। সাদা জার্সির সঙ্গে থাকছে লাল শর্টস ও সাদা মোজা।

অ্যাওয়ে কিটে অবশ্য চেনা লাল-সবুজের আবহ ফিরে এসেছে। সবুজ জার্সির কাঁধজুড়ে রয়েছে লাল স্ট্রাইপ। হোম জার্সির মতো অ্যাওয়ে কিটেও বাংলা হরফের নকশা ব্যবহার করা হয়েছে, যা এমবসড টেক্সচারের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এ জার্সিতে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের লোগো ও খেলোয়াড়দের নম্বর সাদা রঙে রাখা হয়েছে। সঙ্গে থাকছে সবুজ শর্টস ও মোজা। নতুন জার্সির দাম ১ হাজার ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ নিয়ে দৌড়ের স্বত্বাধিকারী আবিদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘ফেব্রিকের কারণে দামটা একটু বেশি। তবে সামনে আমরা ফ্যান এডিশন করছি, যেটার দাম ৭০০-৮০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। বাফুফের অনুমোদন পেলে এটি বাজারে ছাড়া হবে।’

এদিকে বর্তমানে দৌড়ের কোনো আনুষ্ঠানিক শোরুম নেই। তবে এবার ইনফিনিটি শপে বাংলাদেশের জার্সি পাওয়া যাবে। সমর্থকদের জন্য অফলাইনেও জার্সি কেনার সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে দৌড়ের নিজস্ব শোরুম খোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

তিনি বলেন, ‘অনলাইনে জার্সি বিক্রি হচ্ছে। আমরা চাই অফলাইনেও দৌড়ের শোরুম থেকে যেন সমর্থকেরা জার্সি সংগ্রহ করতে পারেন।’

বাফুফের সঙ্গে ‘দৌড়’-এর চুক্তির মেয়াদ দুই বছর। এরই মধ্যে চুক্তির দেড় বছর পেরিয়ে গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গত এক বছরে প্রায় ২০ হাজার জাতীয় দলের জার্সি বিক্রি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী নিয়মিত বাফুফেকে রয়্যালিটিও দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রয়োজন মেটাতে চুক্তির বাইরে আরও কয়েক হাজার জার্সি সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালও ভবিষ্যতে প্রতি দুই বছর পরপর জাতীয় দলের জার্সিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছেন।