০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:০৯

আগুয়েরোকে ঘিরে মাদক চক্রের ভয়ংকর পরিকল্পনা, আদালতের নথিতে যা আছে

সার্জিও আগুয়েরো   © টিডিসি ছবি

বিশ্ব ফুটবলের পরিচিত মুখ সার্জিও আগুয়েরোকে ঘিরে এবার উঠেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্তাধীন একটি চক্র তার নাম ও বিশ্বজোড়া পরিচিতিকে ব্যবহার করে বাণিজ্যিক প্রকল্পের আড়ালে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আর্জেন্টাইন আদালতের নথিতে আগুয়েরোকে এই মামলার আসামি বা অভিযুক্ত করা হয়নি।

বিচারক পাবলো ইয়াদারোলার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত তদন্তে জানা গেছে, টিকিট বিক্রির একটি প্ল্যাটফর্ম চালুর কথা বলে চক্রটি আগুয়েরোকে প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছিল। আন্তর্জাতিক পরিসরে সক্রিয় ওই চক্রের কর্মকাণ্ড বর্তমানে আদালতের কঠোর আইনি পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্দেহভাজনদের ফোন জব্দ করার পর সেখান থেকে পাওয়া বার্তা ও নথি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পেয়েছে। উদ্ধার হওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগুয়েরোর প্রতিষ্ঠিত ই-স্পোর্টস ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘ক্রু টিকিটস’ নামে একটি ব্র্যান্ড চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, প্রকল্পটির আড়ালে আগুয়েরোর বিশ্বব্যাপী পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নেওয়া এবং অর্থ পাচার করাই ছিল চক্রটির মূল উদ্দেশ্য।

তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্র বলিভিয়া থেকে কোকেন এবং স্পেন থেকে সিন্থেটিক মাদক চোরাচালানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। পুলিশ ইতোমধ্যে চক্রটির অন্যতম সন্দেহভাজন পিবট আলভারেজসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর আলভারেজ অনশন শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চক্রটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া বেশ কিছু বার্তা মামলার নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব বার্তায় দিয়েগো ফ্রান্সিসকো আনজালনি, বোনো ওজি দে কারলুচি, রাউল ওমার ব্রুহো মানজোনি এবং আলভারেজের নাম রয়েছে। আভেলিয়ানেদা শহরের ইন্ডিপেনদিয়েন্তে স্টেডিয়ামের কাছে রিকার্দো বোচিনি স্ট্রিটের একটি আস্তানা থেকে তাদের কিছু কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি এক বার্তায় আনজালনি তাঁর সহযোগী দে কারলুচিকে জানান, টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম নিয়ে তিনি দ্রুত আগুয়েরোর সঙ্গে চুক্তি করবেন। এর কিছুদিন পর একাধিক শেল বা ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে প্রকল্পটি পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। এসব কোম্পানির একটির পেছনে ছিলেন একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। অন্য একটি কোম্পানির মাধ্যমে আগুয়েরোর প্রকল্প পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

পরে চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে ২২ এপ্রিল মেক্সিকো সফরের পরিকল্পনা করা হয়। আনজালনি তাঁর মধ্যস্থতাকারীদের জানান, তিনি আগুয়েরোর সঙ্গে সরাসরি দেখাও করেছেন। প্রকল্পটির প্রাথমিক মূলধনে যেন আগুয়েরোকে কোনো অর্থ দিতে না হয়, সে জন্য আনজালনি নিজেই প্রায় ১০ হাজার ইউরো তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন বলেও তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

পুরো বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে আদালতে ব্যাপক আইনি পর্যালোচনা চলছে। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা আবারও নিশ্চিত করেছেন, আদালতের কোনো নথিতেই সার্জিও আগুয়েরোর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই।