মেসির ৪ গোল—কিংবদন্তিরা বুঝি এভাবেই কামব্যাক করে!
সময়টা ভালো যাচ্ছিল না লিওনেল মেসির। মাঠের পারফরম্যান্সে সেই চেনা ঝলক ছিল না, দলও একের পর এক হারের ধাক্কায় দিশেহারা। পাঁচ ম্যাচে চার হার ও এক ড্র—ইন্টার মায়ামি যেন নিজেদেরই খুঁজছিল। এমন সময় একজন কিংবদন্তিই পারেন পুরো গল্পটা বদলে দিতে। আর মেসি ফিরলেন নিজের চেনা রূপে। এক ম্যাচে চার গোল, সঙ্গে একটি অ্যাসিস্ট; আর তার দল ইন্টার মায়ামি পেল রেকর্ড ৭-১ গোলের জয়। যেন মেসি বললেন, কামব্যাক হলে এমনই হয়!
মাঠ ও মাঠের বাইরে সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না মেসির। বিশ্বকাপে হারের পর নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারছিলেন না তিনি। ফাইনালে হারের পর বাবার মৃত্যুও তাকে মানসিকভাবে নাড়া দিয়েছিল। মাঠেও সময়টা যাচ্ছিল না মেসিসুলভ। তার সঙ্গে দলের অবস্থাও ছিল হতাশাজনক। পাঁচ ম্যাচে চার হার ও এক ড্রয়ে ইন্টার মায়ামি যেন নিজেদেরই হারিয়ে ফেলেছিল।
অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো। সিএফ মন্ট্রিলের জালে গুনে গুনে সাত গোল দিল ফ্লোরিডার ক্লাবটি। মেজর লিগ সকারে ৭-১ গোলের রেকর্ড ব্যবধানে জয় পেল মায়ামি। আর এই জয়ের মূল নায়ক ছিলেন মেসি। একাই করেছেন চার গোল, সঙ্গে ছিল একটি অ্যাসিস্টও।
বড় ব্যবধানে জয় পেলেও ম্যাচের প্রথমার্ধে মায়ামিকে বেশ ভালোই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হয়েছে। নু স্টেডিয়ামে বিরতিতে ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল তারা। শুরুতেই লিড নেয় স্বাগতিক মন্ট্রিল। এরপর আরও কয়েকটি বিপজ্জনক সুযোগ তৈরি করে তারা। এর মধ্যে দুটি শট সরাসরি পোস্টে আঘাত করে।
২০ মিনিটে কর্নার কিক থেকে শক্তিশালী হেডে মায়ামির জার্সিতে নিজের প্রথম গোল করেন কাসেমিরো। তবে সেই গোলের জবাব দিতে বেশি সময় নেয়নি মন্ট্রিল। ৩৭ মিনিটে ফ্যাবিয়ান হারবার্স গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান।
তবে সমতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র দুই মিনিট পরই মায়ামিকে আবার এগিয়ে দেন মেসি। দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে মন্ট্রিলের অরক্ষিত জালে বল জড়িয়ে দেন আর্জেন্টাইন তারকা।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরেই আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে মায়ামি। ৫১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মেসি।
এরপর একের পর এক গোল আসতে থাকে। ৭৯ মিনিটে দলের চতুর্থ গোল করেন লুইস সুয়ারেজ। মাত্র চার মিনিট পর মেসি পূর্ণ করেন নিজের হ্যাটট্রিক।
তাতেও থামেনি মায়ামি। ৮৯ মিনিটে দলের ষষ্ঠ গোল করেন আলেক্সান্দার শো। এরপর ম্যাচের ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে নিজের চতুর্থ গোল করেন মেসি। মন্ট্রিলের জাল আবারও কাঁপিয়ে ম্যাচের সবচেয়ে বড় তারকা হয়ে ওঠেন তিনি।
ক্যারিয়ারে অষ্টমবারের মতো এক ম্যাচে চার বা তার বেশি গোল করলেন মেসি। ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর এক ম্যাচে চার গোল করার ঘটনা এবারই প্রথম। এর আগে সর্বশেষ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্পেনের লা লিগায় এইবারের বিপক্ষে বার্সেলোনার জার্সিতে এক ম্যাচে চার গোল করেছিলেন তিনি।
শনিবারের এই চার গোলের পর এমএলএসের গোলদাতার তালিকার শীর্ষেও উঠে গেলেন আর্জেন্টাইন তারকা। ১৯ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা এখন ১৮। এফসি ডালাসের পিটার মুসার চেয়ে দুই গোল বেশি করেছেন মেসি।
২৫ জুলাইয়ের পর এমএলএসে এটি মায়ামির প্রথম জয়। লিগস কাপসহ সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন ছিল তারা। এমন এক সময়ে এই জয় এলো, যখন দলের ডাগআউটে ছিলেন না ভারপ্রাপ্ত কোচ গুইলেরমো হোয়োস।
এই সপ্তাহেই তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ক্রিস্টিয়ান কিলি গঞ্জালেজের নাম ঘোষণা করেছে ইন্টার মায়ামি। ওয়ার্ক পারমিট পেলেই নতুন দায়িত্বে যোগ দেবেন তিনি।
মন্ট্রিলের বিপক্ষে ম্যাচে সাইডলাইন থেকে মায়ামিকে নির্দেশনা দিয়েছেন সহকারী কোচ রাফায়েল পেরেজ।
আর মাঠে ছিলেন সেই চেনা মেসি—চার গোল করে, একটি অ্যাসিস্ট দিয়ে এবং দলকে ৭-১ গোলের বিশাল জয় এনে দিয়ে। কঠিন সময়ের পর তার এই প্রত্যাবর্তন যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, কিংবদন্তিরা ফর্মে ফেরেন শুধু ভালো খেলে নয়, পুরো ম্যাচের গল্পটাই বদলে দিয়ে।