সবধরণের ফুটবল থেকেই বিদায়ের ইঙ্গিত দিলেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া
জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছেন আগেই। এবার ক্লাব ফুটবল থেকেও বিদায়ের ইঙ্গিত দিলেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। কোপা লিবের্তাদোরেস থেকে রোজারিও সেন্ট্রালের বিদায়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার কথা জানিয়েছেন ক্লাবটির অধিনায়ক। করিন্থিয়ান্সের কাছে ১-০ গোলে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে রোজারিও সেন্ট্রাল। এই হার ডি মারিয়ার জন্যও ছিল ভীষণ কষ্টের।
কোপা লিবের্তাদোরেসের ২০২৬ আসরের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে করিন্থিয়ান্সের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় রোজারিও সেন্ট্রাল। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় করিন্থিয়ান্সের মাঠ অ্যারেনা করিন্থিয়ান্সে। একই মাঠে ১২ বছর আগে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে ঐতিহাসিক গোল করেছিলেন ডি মারিয়া। সেই গোলের সুবাদে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। পরে সেই বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার সুযোগ পান তিনি।
তবে এবার সেই একই মাঠ থেকে ডি মারিয়াকে ফিরতে হলো হতাশা নিয়ে। ম্যাচ শেষে ইএসপিএনের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের কষ্টের কথা গোপন করেননি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা।
ডি মারিয়া বলেন, ‘কঠিন সময়, খুবই কঠিন সময়। কারণ আমার স্বপ্ন ছিল অন্যরকম, আমার ইচ্ছাও ছিল অন্যরকম। আমি আরও চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ফুটবল এমনই। এখন আমাকে ভাবতে হবে এবং দেখতে হবে, এরপর আমি কী করতে চাই।’
শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে রোজারিও সেন্ট্রাল একাধিক গোলের সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত একটি গোলই দুই দলের পার্থক্য গড়ে দেয়। ম্যাচের পর ফক্স স্পোর্টসকে ডি মারিয়া বলেন, ‘আমরা গোল করার সুযোগ পেয়েছিলাম। তবে আমরা যেভাবে ম্যাচটি খেলতে চেয়েছিলাম, সেভাবে খেলতে পারিনি। আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে এবং আমরা পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম লেগেও আমরা ব্যবধান তৈরি করতে পারতাম। কিন্তু ফুটবল এমনই। এবার তারা একজন খেলোয়াড় কম নিয়েও আমাদের বিপক্ষে গোল করতে পেরেছে। কখনো কখনো ভাগ্য আপনার পক্ষে থাকে না। আজও সেটা আমাদের পক্ষে ছিল না।’
আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপজয়ী ডি মারিয়া গত জুনে রোজারিও সেন্ট্রালের সঙ্গে নিজের চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছেন। শৈশবের ক্লাবটিতে ১৮ বছর পর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ফিরেছিলেন তিনি। ইউরোপের ফুটবলে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর প্রিয় ক্লাবে ফিরে এসে দারুণ পারফরম্যান্সও করেছেন এই ফরোয়ার্ড।
নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত রোজারিও সেন্ট্রালের সঙ্গে থাকবেন ডি মারিয়া। তখন তার বয়স হবে ৩৯ বছর। তবে লিবের্তাদোরেস থেকে বিদায়ের পর এবার সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অবসর নেবেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে।
রোজারিও সেন্ট্রালে ফেরার পর এখন পর্যন্ত ৪৩টি ম্যাচ খেলেছেন ডি মারিয়া। এই সময়ে তিনি ১৪টি গোল করেছেন এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও সাতটি গোল।
তার নেতৃত্বে ২০২৫ সালের লিগ প্রফেশনাল শিরোপাও জেতে রোজারিও সেন্ট্রাল। বার্ষিক পয়েন্ট তালিকায় সবার ওপরে থাকায় ক্লাবটিকে এই শিরোপা দেওয়া হয়।
তবে লিবের্তাদোরেসের শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের পর ডি মারিয়ার সামনে এখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা। জাতীয় দলকে আগেই বিদায় জানানো এই তারকা এবার ক্লাব ফুটবল থেকেও সরে দাঁড়াবেন কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও তার আগেই ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।