‘মেসি, পারেদেসকে সামলাও!’, রেফারির বডি ক্যামেরায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল সবচেয়ে কাছ থেকে দেখেছেন কে? উত্তরটা সহজ, স্লাভকো ভিনচিচ। গত ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্পেন–আর্জেন্টিনা ফাইনাল পরিচালনা করেছিলেন স্লোভেনিয়ার এই রেফারিই। পরে ফাইনালের মাত্র এক সপ্তাহ পরই অবসরে যান তিনি।
তবে ম্যাচটি পরিচালনার সময় ভিনচিচের মাথায় ছিল বডি ক্যামেরা বা ‘রেফ ক্যাম’। স্পেনের ১-০ গোলে জেতা সেই ফাইনালের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ভিনচিচের ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ প্রকাশ করেছে ফিফা। ফলে দর্শকেরা এবার ম্যাচের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত সরাসরি রেফারির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পাচ্ছেন।
এবারের বিশ্বকাপে রেফ ক্যাম ছিল অন্যতম আলোচিত প্রযুক্তি। টেলিভিশন সম্প্রচারে যেসব ঘটনা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি, সেগুলোর অনেকটাই ধরা পড়েছে এই ক্যামেরায়। ফিফার প্রকাশ করা প্রায় পাঁচ মিনিটের ভিডিওতে তাই দেখা মিলেছে ফাইনালের বেশ কিছু অদেখা মুহূর্তের।
ফুটেজের শুরুতেই দেখা যায়, ম্যাচ শুরুর আগে টানেলে মেসি মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রিসহ স্পেনের কয়েকজন খেলোয়াড়কে আলিঙ্গন করছেন। এরপর ম্যাচ অফিশিয়ালদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও হ্যান্ডশেক করেন তিনি।
দুই অধিনায়ক রদ্রি ও মেসি যখন টস করতে যান, তখন আরেকটি মজার ঘটনা ধরা পড়ে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সাউন্ড সিস্টেমে তখন ডেভিড গেটার ‘টাইটানিয়াম’ গানটি বাজছিল। গানের শব্দে দুই অধিনায়কের কথোপকথন প্রায় পুরোপুরি ঢাকা পড়ে যায়।
ম্যাচ চলাকালে ভিনচিচের কঠোর নিয়ন্ত্রণের চিত্রও ফুটেজে উঠে এসেছে। একটি ফাউলের পর আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘তোমার জন্য এটিই শেষ সতর্কতা।’
মেসির সঙ্গে ভিনচিচের একটি মুহূর্তও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ফাউলের শিকার হওয়ার পর মেসি রেফারির দিকে ফিরে প্রতিবাদ জানাতে গেলে ভিনচিচ তাকে বলেন, ‘লিওনেল, আমি দেখতে পাচ্ছি।’ এরপর আর কথা না বাড়িয়ে সরে যান মেসি।
তবে ভিডিওর সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তটি আসে দ্বিতীয়ার্ধে। বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ছয় মিনিট পর হলুদ কার্ড দেখেছিলেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। এরপর ভিনচিচকে মেসিকে বলতে শোনা যায়, ‘মেসি, পারেদেসকে নিয়ন্ত্রণ করো। আমি চাই না... ও কার্ড দেখেছে। দয়া করে, ওকে সামলাও।’
মেসির পরামর্শে পারেদেস ম্যাচে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে বেঁচে গেলেও শেষ পর্যন্ত মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি। ম্যাচ শেষে স্পেনের এরিক গার্সিয়াকে আঘাত করার পাশাপাশি গাভিকেও মাটিতে ফেলে দেন তিনি। ২৯ জুলাই ফিফা জানায়, পারেদেসের বিরুদ্ধে মারধরের তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তদন্ত চলছে। তবে রেফ ক্যামের প্রকাশিত ফুটেজে ওই হাতাহাতির দৃশ্য দেখানো হয়নি।
রেফারিদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের উদ্যোগ অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০২৫ ক্লাব বিশ্বকাপে সফলভাবে ব্যবহারের পর ছেলেদের বিশ্বকাপেও প্রযুক্তিটি চালু করে ফিফা। সংস্থাটির ভাষায়, এটি রেফারির মাথায় নিরাপদে পরার উপযোগী একটি হালকা ভিডিও ডিভাইস। ম্যাচ চলাকালে এটি রেফারির দৃষ্টিকোণ থেকে দৃশ্য ধারণের পাশাপাশি হাই-ডেফিনিশন ভিডিও ও অডিও রিয়েল-টাইমে রেকর্ড ও সম্প্রচার করতে পারে।