১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৫

বাবার মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো মাঠে নামলেন মেসি

ইন্টার মায়ামির জার্সিতে লিওনেল মেসি   © সংগৃহীত

বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর শোক কাটিয়ে প্রথমবারের মতো ফুটবল মাঠে ফিরেছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। কয়েক দিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর লিওঁর বিপক্ষে লিগস কাপের ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন ইন্টার মায়ামির এই অধিনায়ক। তাকে মাঠে দেখেই করতালিতে স্বাগত জানান সমর্থকেরা। তবে মেসির ফেরার রাতটি জয় দিয়ে রাঙাতে পারেনি ইন্টার মায়ামি। লিওঁর কাছে ৩-২ গোলে হেরে লিগস কাপ থেকে বিদায় নিয়েছে দলটি।

গত শনিবার বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর পেয়ে আর্জেন্টিনায় ফিরে যান মেসি। কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে থাকতে কয়েক দিন রোজারিওতে কাটান তিনি। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পরও ধারণা করা হচ্ছিল, আরও কিছুদিন বিশ্রাম নেবেন এই তারকা। তবে শেষ পর্যন্ত লিওঁর বিপক্ষে ম্যাচের স্কোয়াডে জায়গা পান তিনি।

ম্যাচের প্রথমার্ধে বদলি বেঞ্চে ছিলেন মেসি। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার সময় ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল ইন্টার মায়ামি। মেসি মাঠে প্রবেশ করতেই পুরো স্টেডিয়াম করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে। বলের সঙ্গে তার প্রথম কয়েকটি স্পর্শেও সমর্থকেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

মাঠে নেমে বেশ সক্রিয় ছিলেন মেসি। সতীর্থদের সঙ্গে ভালো সমন্বয় করে খেলেছেন এবং কয়েকবার আক্রমণেও বিপদ তৈরি করেন। তবে লিওঁর খেলোয়াড়েরা তাকে ভালোভাবে মার্ক করায় গোলমুখে পরিষ্কারভাবে শট নেওয়ার সুযোগ পাননি।

ম্যাচে মেসির সবচেয়ে ভালো সুযোগ আসে একটি কর্নার থেকে। তার নেওয়া কর্নার সরাসরি গোলমুখে বাঁক নিতে থাকলে লিওঁর গোলরক্ষক মুষ্টি দিয়ে বল সরিয়ে দেন। ফলে সরাসরি কর্নার থেকে গোল করার সুযোগও নষ্ট হয়।

বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শনিবার রাতে রোজারিওতে পৌঁছান মেসি। জীবনের প্রথম ফুটবল খেলতে দেখেছিলেন যে মানুষটি, সেই বাবাকেই শেষ বিদায় জানাতে সেখানে যান তিনি। রোববার পেরেজ শহরের এল প্রাদো সমাধিক্ষেত্রে পারিবারিক আয়োজনে হোর্হে মেসির শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এরপর মায়ের সেলিয়ার সঙ্গেও কয়েক দিন সময় কাটান মেসি।

এরপর মঙ্গলবার রাতে মায়ামির উদ্দেশে রওনা হন তিনি। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা পরই লিওঁর বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হিসেবে থাকার সিদ্ধান্ত নেন মেসি।

এর আগে বুধবার বাবাকে নিয়ে আবেগঘন একটি বিদায়ী চিঠি প্রকাশ করেন তিনি। সেই চিঠিতে ফুটবল চালিয়ে যাওয়া নিয়েও নিজের অনিশ্চয়তার কথা জানান মেসি।

মেসি লিখেছিলেন, ‘তোমাকে ছাড়া আমি কী করব, কীভাবে এগিয়ে যাব, জানি না। আমি শুধু ফুটবল খেলতাম, আর এখন দীর্ঘদিন আর ফুটবল খেলব কি না, তা নিয়েই আমার অনেক সন্দেহ হচ্ছে।’

বাবার মৃত্যুর শোক নিয়েই মাঠে নামলেও মেসি দলকে জেতাতে পারেননি। প্রথমার্ধে ড্যানিয়েল পিন্টের গোলে এগিয়ে যায় ইন্টার মায়ামি। দ্বিতীয়ার্ধে মেসি মাঠে নামার পর লিওঁর হয়ে ড্যানিয়েল আরসিলা গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান।

এরপর ইয়ানিক ব্রাইট আবার মায়ামিকে এগিয়ে দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় লিওঁ। হুয়ান ডমিঙ্গেস গোল করে আবারও সমতা ফেরান। এরপর আরসিলা নিজের দ্বিতীয় গোল করে লিওঁকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান আর বদলায়নি। ৩-২ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় লিওঁ। অন্যদিকে, এই হারে লিগস কাপ থেকে বিদায় নেয় ইন্টার মায়ামি।

বাবাকে হারানোর শোকের মধ্যেই মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন মেসি। তাই তার জন্য ম্যাচটির ফলের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মাঠে ফেরার মুহূর্তটি। সমর্থকদের ভালোবাসা ও করতালিতে আবেগঘন সেই প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় হয়ে থাকল আর্জেন্টাইন তারকার জন্য।