ফাইনালের দিন আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
চলতি বছরের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আর্জেন্টিনার হার ও ম্যাচটির কৌশল নিয়ে তৈরি হওয়া নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যে তৎকালীন পরিস্থিতি নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছেন আর্জেন্টাইন সাংবাদিক রেনজো পান্তিচ। কোনো ম্যাচ কারচুপি বা অস্বাভাবিক ঘটনার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, ফাইনাল শুরুর আগেই দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় শারীরিক ক্লান্তি ও চোট সমস্যায় ভুগছিলেন, যা ম্যাচের কৌশলে বড় প্রভাব ফেলে।
পান্তিচের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ফাইনাল শুরুর আগে ওয়ার্মআপ করার সময়ই অন্তত তিনজন আর্জেন্টাইন ফুটবলার পেশিতে টান বা অস্বস্তি অনুভব করেন। শেষ মুহূর্তের কৌশলগত আলোচনার আগেই চিকিৎসকদের বিষয়টি জানানো হয় এবং কোচ লিওনেল স্কালোনিও তা জানতেন। এই খেলোয়াড়দের মধ্যে দুজন ছিলেন সেন্টার ব্যাক ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, যাদের চোট পরে আরও গুরুতর রূপ নেয়। এছাড়া মাঝমাঠের অন্য এক খেলোয়াড়ও শারীরিক ক্লান্তিতে ভুগছিলেন বলে জানান তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের এই চোট ও শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্কালোনিকে আগে থেকে ঠিক করে রাখা আক্রমণাত্মক কৌশল পরিবর্তন করতে হয়। স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে স্কালোনির পরিকল্পনা ছিল রক্ষণে মনোযোগ দিয়ে ম্যাচ টেনে নেওয়া এবং সুযোগ বুঝে টাইব্রেকার পর্যন্ত পৌঁছানো।
তবে এই রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে ড্রেসিংরুমে দলগত দ্বিমত তৈরি হয়েছিল। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজসহ কয়েকজন ফুটবলার রক্ষণাত্মক খেলার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সরাসরি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার পক্ষে মতামত দেন।
বিতর্ক ও আলোচনার এমন এক জটিল মুহূর্তে দলপতি লিওনেল মেসি ড্রেসিংরুমের দরজায় দাঁড়িয়ে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সব ভুলে যাও, শান্ত থেকে বল নিয়ে নিজেদের মতো করে খেলো।’ এর মধ্য দিয়েই মূলত ম্যাচের আগের কৌশলগত বিতর্কের ইতি ঘটেছিল বলে জানান পান্তিচ।